এই রিপোর্ট তৈরি করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিইং রিসার্চ সেন্টার। গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের তথ্যের ভিত্তিতে ১৪৭টি দেশের মানুষের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা বিচার করে তৈরি হয়েছে এই তালিকা।
.jpeg.webp)
ছবি (AI)
শেষ আপডেট: 19 March 2026 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সুখের অলিম্পিক। সেই মঞ্চে বারবার সোনা জিতে নিচ্ছে উত্তর ইউরোপের দেশগুলি। ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ও (World Happiness Report) সেই ছবিই ফের তুলে ধরল। টানা নবমবার বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তকমা পেল ফিনল্যান্ড (Finland Happiest Country)। তার ঠিক পিছনেই আইসল্যান্ড ও ডেনমার্ক—অর্থাৎ, তিনটি নর্ডিক দেশই দখল করে রাখল প্রথম তিন স্থান।
এই রিপোর্ট তৈরি করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিইং রিসার্চ সেন্টার। গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের তথ্যের ভিত্তিতে ১৪৭টি দেশের মানুষের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা বিচার করে তৈরি হয়েছে এই তালিকা।
বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে সুখী দেশ (২০২৬)
১. ফিনল্যান্ড
২. আইসল্যান্ড
৩. ডেনমার্ক
৪. কোস্টা রিকা
৫. সুইডেন
৬. নরওয়ে
৭. নেদারল্যান্ডস
৮. ইজরায়েল
৯. লুক্সেমবার্গ
১০. সুইজারল্যান্ড
ভারতের অবস্থান ধীরে উন্নতির পথে। এই তালিকায় ভারতের অবস্থান এখনও অনেকটাই পিছন। ২০২৬ সালে ভারত ছিল ১১৬তম স্থানে। তবে গত কয়েক বছরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৪ সালে উঠে আসে ১২৬তম স্থানে। এবার ১১৮ তম স্থানে রয়েছে ভারত।
কীভাবে নির্ধারিত হয় সুখের মাপকাঠি? এই সূচক নির্ধারণে একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়—‘ক্যানট্রিল ল্যাডার’। মানুষকে বলা হয়, নিজের জীবনকে ০ (সবচেয়ে খারাপ) থেকে ১০ (সবচেয়ে ভালো)-এর মধ্যে কোথায় রাখবেন। এর পাশাপাশি আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা হয়—মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু, সামাজিক সহায়তা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, উদারতা এবং দুর্নীতি নিয়ে ধারণা। এই সমস্ত তথ্যের তিন বছরের গড় ধরে চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং তৈরি হয়।
ফিনল্যান্ডের মানুষের গড় সন্তুষ্টির স্কোর ৭.৭৬৪—যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিনল্যান্ডের সাফল্যের মূল রহস্য হল পারস্পরিক আস্থা। শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় উন্নত ব্যবস্থা। এবং সবচেয়ে বড় কথা— পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি রয়েছে সেখানে। একজন গবেষকের কথায়, “যখন মানুষ বিশ্বাস করে আমরা একসঙ্গে আছি, তখন সমাজ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।”
‘ওয়ালেট’ পরীক্ষায়ও এগিয়ে ফিনল্যান্ড!
রিপোর্টে একটি মজার কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ দেওয়া হয়েছে—যদি কোথাও আপনার মানিব্যাগ (ওয়ালেট) হারিয়ে যায়, তাহলে সেটি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ফিনল্যান্ডেই! গবেষকদের মতে, এই বিশ্বাস ও সামাজিক সততাই একটি দেশের সুখের বড় ভিত্তি।
এই রিপোর্ট আবারও দেখাল ধনী দেশ মানেই সুখী নয়। শুধু অর্থনৈতিক শক্তি সুখের নিশ্চয়তা নয়। কারণ আমেরিকা রয়েছে ২৩ তম স্থানে। কানাডা ২৫তম স্থানে। ব্রিটেন ২৯তম স্থানে।
একটি বড় উদ্বেগও সামনে এসেছে—বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলিতে তরুণদের মধ্যে সুখ কমছে। গত এক দশকে ২৫ বছরের নিচের মানুষের সন্তুষ্টির মাত্রা প্রায় এক পয়েন্ট কমেছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে—অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও অনলাইন গেমিংয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট পুরোপুরি খারাপ নয়—বরং ‘কতটা’ এবং ‘কীভাবে’ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, একটি ‘সুইট স্পট’ রয়েছে—যেখানে সংযোগও থাকবে, আবার অতিরিক্ত নির্ভরতাও হবে না।