হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে বেঁচে ওঠা টম সনেবর্ন আজ নিজের দ্বিতীয় জীবন কাজে লাগাচ্ছেন, অন্য রোগীদের সাহস জোগাতে। তাঁর লড়াই, কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতার গল্প পড়ুন।
.jpg.webp)
টম সনেবর্ন।
শেষ আপডেট: 10 December 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবন যেন দ্বিতীয়বার শুরু হয়েছে টম সনেবর্নের। সে জীবনে এতই আলো, এতই সাহস, যা তিনি ভাগ করে নিতে প্রায়ই পৌঁছে যান অন্য রোগীদের কাছে। গল্পে গল্পে পৌঁছে দিয়ে আসেন, হাল না ছাড়ার বার্তা। কিন্তু তাঁর নিজের পথটা মোটেই এমন সহজ ছিল না। “সব মনে আছে… বিশেষ করে কঠিন দিনগুলো,” বলেন ক্লেভল্যান্ডের পার্মা হাইট্সের বাসিন্দা টম সনেবর্ন।
আট বছর আগে তাঁর হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন হয়েছিল। গত সপ্তাহেই সেই দিনের অষ্টম বর্ষপূর্তি পালন করেছেন তিনি। অথচ সেই ঘটনার এক বছর আগেও তিনি ছিলেন একেবারে স্বাভাবিক, সক্রিয় ৬১ বছরের এক মানুষ। হঠাৎই হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর জীবন থমকে যায়। শুরু হয় হাসপাতাল আর বাড়ির মধ্যে দীর্ঘ লড়াই।
অবশেষে ডাক্তাররা তাঁর হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। সৌভাগ্যক্রমে হঠাৎই একদিন তাঁর ব্লাডগ্রুপের সঙ্গে মেলানো একটা হৃদ্যন্ত্র পাওয়া যায়। এবং তা নিতে পারবেন, এমন রোগী তখন ওই অঞ্চলে একমাত্র টমই ছিলেন। ফলে প্রথম ধাপে টমের ভাগ্য সফল হয়। তার পরে, সেই অস্ত্রোপচারও সফল হয়। এক সপ্তাহ হাসপাতালে থেকে দশ দিনের মাথায় বাড়িও ফিরে যান তিনি।
টম বলেন, “যে ছেলেটির হৃদ্যন্ত্রটি আমি পেয়েছি, তার বয়স ছিল মাত্র ১৩। ওই বয়সে তো অঙ্গদাতা হওয়ার সুযোগ থাকে না। তার মাকেই সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমি তাঁর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। মাঝেমাঝে আমাদের কথা হয়।”
এই কৃতজ্ঞতাই তাঁর ভিতরে নতুন এক উদ্দেশ্য জাগিয়ে তোলে।
তাই আজ টম প্রতি সপ্তাহে ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের মূল ক্যাম্পাসে যান স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। যেভাবে ভয়, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তার সঙ্গে তাঁকে লড়তে হয়েছিল, এখন তিনি সেই পথেই হাত ধরে এগিয়ে দেন অন্য রোগীদের।
“আমার একটাই চেষ্টা থাকে—যেন তাঁদের কঠিন মুহূর্তটা একটু সহজ করতে পারি। কারণ সেটা যে কতটা দীর্ঘ আর কঠিন, তা আমি জানি।”-- বলেন টম।
টম জানেন, হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের পথ কতটা ভয়ংকর। আর সেই জানাটাই আজ তাঁর শক্তি।কারণ তিনি নিজের দ্বিতীয় জীবনটাকে কাজে লাগাতে চান অন্যকে পথ দেখাতে।
টমের কথায়, “অনেকে আমায় বলেন, এই যে অন্যদের সময় দিচ্ছেন, বিনিময়ে কী মিলছে? আমি বলি, আমার কাছে এগুলো বাড়তি সময়। একটা বোনাস ইনিংস। কারণ যদি সেই হৃদ্যন্ত্র না পেতাম, আজ অন্য একজনকে সাহস জোগানোর সুযোগই পেতাম না। তাদের অনিশ্চয়তার সময়টুকুতে পাশে দাঁড়াতে পারতাম না।”