প্রশ্ন উঠছে—প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ দেখা সত্ত্বেও কেন সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না?

হার্ট ফেলিওর চিনতে দেরি।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হার্ট ফেলিওরে চিকিৎসা পদ্ধতি যতই উন্নত হোক, এখনও পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫০ শতাংশের আশেপাশে। বিশেষত যাঁরা হঠাৎ জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে বুঝতে পারেন, হার্ট ফেলিওরের শিকার হয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হয়। অর্থাৎ, রোগ ধরা পড়তে দেরি হলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও দ্রুত কমে যায়। তাই প্রশ্ন উঠছে—প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ দেখা সত্ত্বেও কেন সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না?
ঠিক এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই সামনে এনেছে The Lancet Primary Care–এ প্রকাশিত নতুন গবেষণা। ইংল্যান্ডে ২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যাঁদের হার্ট ফেলিওর ধরা পড়েছে, তাঁদের ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য নথি বিশ্লেষণ করে তৈরি হয়েছে প্রায় দু’দশকের এই সমীক্ষা।
৪ লাখ ১২ হাজারের বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে:
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও উদ্বেগ বাড়ায়:
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বৈষম্য দেখা যায় তিনটি ক্ষেত্রে:
কেন এত দেরি, সেই কারণ হিসেবে গবেষকরা জানিয়েছেন:
বিকল্প উপায় হিসেবে কার্ডিওলজি বিভাগকে কেন্দ্র করে থাকা বর্তমান নির্দেশিকাগুলিকেও পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। কারণ এতে রোগীকে দ্বিতীয় স্তরের চিকিৎসায় পাঠানো বাধ্যতামূলক হয় এবং অপেক্ষার সময় বেড়ে যায়।
কিছু অঞ্চলে ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য ১২ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যা চিকিৎসা শুরুর সময় আরও পিছিয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে চিত্রটি হতাশাজনক। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে যেমন দেরিতে রোগ ধরা পড়ত, আজও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ:
সব কিছু মিলিয়ে, হার্ট ফেলিওর মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের প্রয়োজন।
গবেষকরা মনে করেন, সময় এসেছে নতুন ঝুঁকি নির্ধারণ পদ্ধতি, সহজলভ্য ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ক্ষমতায়নের। নইলে হার্ট ফেলিওরের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা অচিহ্নিত অবস্থায় আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।