সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের মতোই উপসর্গ দেখা গেলেও এর কারণ সম্পূর্ণ আলাদা (Broken Heart Syndrome and heart attack)।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 16 November 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হৃদয় আছে যার...' সে জানে হৃদয়েরও কষ্ট (broken heart) হয়। শুধু তাই নয়, বৈজ্ঞানিক মাপকাঠিতে সেই ব্যথার পরিমাপও সম্ভব। তা কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃতিও পেয়েছে। সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের মতোই উপসর্গ (heart attack like symptoms) দেখা গেলেও এর কারণ সম্পূর্ণ আলাদা।
প্রেম ভাঙা হোক, প্রিয়জন হারানো কিংবা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া মানসিক চাপ - হৃদয়ে যে ব্যথাটা লাগে, তা কখনও কখনও শরীরেও প্রকৃত ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, এমনটাই বলছে মেডিক্যাল সায়েন্স (medical science)। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই অবস্থাকেই বলা হয় 'ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম' (Broken Heart Syndrome) বা টাকোটসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি (Takotsubo cardiomyopathy)। মানসিক বা শারীরিক ধাক্কা থেকে হঠাৎ অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল-এর মতো স্ট্রেস হরমোন বাড়তে থাকে। তা ক্রমেই হার্টের মাংসপেশীকে দুর্বল করে দেয়।
মণিপাল হাসপাতালের কার্ডিয়োলজিস্ট অভিষেক সিং জানান, এই সিন্ড্রোমে হার্টের বাম ভেন্ট্রিকল ফেঁপে ওঠে বা ফুলে যায়। জাপানি অক্টোপাস ফাঁদের মতো আকৃতি হওয়ায় রোগটির নাম টাকোটসুবো।
ডাঃ সিং বলেন, শরীর যখন বিপদ টের পায়, তখন ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয় - তা হার্টের স্বাভাবিক ছন্দে বাধা তৈরি করে। কারও কারও ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়াই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
কারা বেশি আক্রান্ত হন?
ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের মধ্যে এই সিন্ড্রোমের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। মানসিক আঘাত, শোক, সম্পর্ক ভাঙা কিংবা বড় ধরনের ট্রমার পরই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগটি দেখা যায়।
হঠাৎ বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া - সবকটাই হার্ট অ্যাটাকের মতো উপসর্গ। তাই এমন অবস্থা দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
কীভাবে বোঝা যায় ও কীভাবে সামলাবেন?
চিকিৎসা: রোগীভেদে আলাদা চিকিৎসা দরকার হয়। হার্টের মাংসপেশীকে শিথিল রাখতে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে ইনট্রা-অর্টিক বেলুন পাম্প (IABP) লাগানো হয়।
মানসিক আঘাত সামলানোও সমান জরুরি
ডা সিংয়ের মতে, শুধু হার্ট নয়, মনকেও সেরে উঠতে হবে। মেডিটেশন, কাউন্সেলিং, যোগা, প্রিয় কোনও কাজ, প্রিয় মানুষের সঙ্গ - সবই স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে।
লাইফস্টাইলে কী বদল আনবেন?
সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক চিকিৎসা ও যথেষ্ট মানসিক সমর্থন পেলে অধিকাংশ রোগী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। অনেকে তো আরও শক্তভাবে ফিরে আসেন।
অর্থাৎ, মানসিক চাপ সত্যিই হৃদয়ের ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু তা চিরস্থায়ী হতে হবে - এমন নয়। তাই মানসিক সুস্থতাও শারীরিক সুস্থতার মতোই অপরিহার্য।