ভারতেও বহুবার স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার নিয়ে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে।

অধিকাংশ দেশেই ডাক্তারি নজরদারিতে বিষ ওষুধ বা ইঞ্জেকশন প্রয়োগে শান্তিতে মৃত্যুর ব্যবস্থা প্রচলিত।
শেষ আপডেট: 21 June 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনে কয়েক যুগ ধরে আটকে থাকা স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার সংক্রান্ত বিল পাশ হয়েছে পার্লামেন্টে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে ব্রিটেনই একমাত্র পথপ্রদর্শক দেশ নয়। এর আগেও বহু দেশে এনিয়ে আইন পাশ হয়েছে। ভারতেও বহুবার স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার নিয়ে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। হাইকোর্ট এমনকী সুপ্রিম কোর্টেও এনিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। কিন্তু এদেশে এখনও কোনও আইন প্রণয়ন হয়নি। শীর্ষ আদালতও সহানুভূতি প্রকাশ করলেও কোনও রায় দেয়নি।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক, স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার মান্যতা পেয়েছে কোন কোন দেশে। তবে অধিকাংশ দেশেই ডাক্তারি নজরদারিতে বিষ ওষুধ বা ইঞ্জেকশন প্রয়োগে শান্তিতে মৃত্যুর ব্যবস্থা প্রচলিত।
সুইৎজারল্যান্ড- ছবির মতো সুন্দর দেশ সুইৎজারল্যান্ডে এই আইন পাশ হয় ১৯৪২ সালে। স্বেচ্ছামৃত্যুর শর্ত ছিল, স্বার্থপর উদ্দেশ্যে এই আইন ব্যবহার করা যাবে না। এই দেশেই প্রথম এটা আইনে পরিণত হয়েছিল।
আমেরিকা- চিকিৎসা সংক্রান্ত নিরাময়ের বাইরে চলে গেলে ডাক্তারদের অনুমতিতে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে গোটা দেশে নয়, আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, কোলোরাডো, হাওয়াই, মন্তানা, মেইন, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, ওরেগন, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন ও ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ায় এই আইন প্রচলিত আছে। এর মধ্যে ওরেগনে ১৯৯৭ সালে প্রথম এই আইন হয়।
নেদারল্যান্ডস- এখানে এই আইনের নাম Termination of Life on Request and Assisted Suicide (Review Procedures) Act। ২০০২ সালে আইনে পরিণত হয়। রোগী যখন অসহ্য রোগযন্ত্রণায় দিনের পর দিন কাতর এবং সুস্থ হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না, তখন ডাক্তার তাঁকে শান্তির মৃত্যু দিতে পারেন, সেই ব্যক্তির সম্মতিতে। নাবালকরাও এই মৃত্যুর দাবিদার হতে পারে। তবে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সি হলে বাবা-মায়ের অনুমতি লাগবে।
বেলজিয়াম- বেলজিয়ামেও এটা আইন হয় ২০০২ সালে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরে নীচের নাবালকদের বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক ছিল। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম মানসিক ব্যাধি ও শারীরিক অক্ষমতাকেই মানক হিসেবে ধরা হয়।
কানাডা- কানাডায় Medical Assistance in Dying বিল পেশ হয় ২০১৬ সালে। পাঁচ বছর পর এটা সর্বাত্মক আইনে পরিণত হয়।
অস্ট্রেলিয়া- ২০১৯ সালে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রথম আইন হওয়ার পর, একে একে অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র এই আইন পাশ হয়।
স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড- স্পেনে এই আইন পাশ হয় ২০২১ সালে। জার্মানিতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই আইন জারি ছিল। কিন্তু সেবছর তা বাতিল হয়। পাঁচ বছর পর জার্মান শীর্ষ আদালত একেবার মুর্মুর্ষু ব্যক্তিদের জন্য আত্মহত্যার পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত জাতীয় আইনে পরিণত হয়নি। ২০১৬ সালে ফ্রান্সেও স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার আইনে পরিণত হয়। কিন্তু, বিষওষুধ প্রয়োগে তা বলবৎ করা হয় না। তবে আইনের এই পরিবর্তন এখনও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পড়ে রয়েছে। ২০২৭ সালে এটা পরিপূর্ণ আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আয়ারল্যান্ডেও এই বিল উত্থাপন হলেও এখনও আইনে পরিণত না হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি একে সমর্থন করায় কিছু পরিবর্তনের পর আলোচনার স্তরে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার সংক্রান্ত বিল পাশ হল। ৩১৪-২৯১ ভোটে সংসদীয় বাধা অতিক্রম করে এই ঐতিহাসিক যুগের দরজা খুলল প্রাচীনপন্থী ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। গোঁড়া ক্যাথলিক খ্রিস্টীয় ধর্মমত মেনে যুগ যুগ ধরে ইংল্যান্ডে আত্মহননের পথকে ঈশ্বরের অবমাননা বলে গণ্য করা হতো। শুক্রবার সেই রদ্দি ভাবনার শিকল কেটে নিরাময়ের অযোগ্য গুরুতর ব্যাধিগ্রস্ত, বছরের পর বছর কোমায় থাকা এবং চিররুগ্ন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিতে পারবেন। সেই বিলই পাশ হয়েছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে। কয়েক যুগ ধরে এই বিল নিয়ে টালবাহানা চলছিল। হাউস অফ কমন্সে পাশ হয়ে এবার তা অনুমোদনের জন্য যাবে উচ্চকক্ষ হাউস অফ লর্ডসে। সেখানে এই বিলের চুলচেরা বিচার হবে। যাতে আরও কয়েক মাস কেটে যেতে পারে।