গোঁড়া ক্যাথলিক খ্রিস্টীয় ধর্মমত মেনে যুগ যুগ ধরে ইংল্যান্ডে আত্মহননের পথকে ঈশ্বরের অবমাননা বলে গণ্য করা হতো।
.jpeg.webp)
শুক্রবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার বিল পাশ হওয়ার পর আবেগে ভেসে যান সমর্থকরা।
শেষ আপডেট: 21 June 2025 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার সংক্রান্ত বিল পাশ হল। ৩১৪-২৯১ ভোটে সংসদীয় বাধা অতিক্রম করে এই ঐতিহাসিক যুগের দরজা খুলল প্রাচীনপন্থী ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। গোঁড়া ক্যাথলিক খ্রিস্টীয় ধর্মমত মেনে যুগ যুগ ধরে ইংল্যান্ডে আত্মহননের পথকে ঈশ্বরের অবমাননা বলে গণ্য করা হতো। শুক্রবার সেই রদ্দি ভাবনার শিকল কেটে নিরাময়ের অযোগ্য গুরুতর ব্যাধিগ্রস্ত, বছরের পর বছর কোমায় থাকা এবং চিররুগ্ন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিতে পারবেন। সেই বিলই পাশ হয়েছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে। কয়েক যুগ ধরে এই বিল নিয়ে টালবাহানা চলছিল। হাউস অফ কমন্সে পাশ হয়ে এবার তা অনুমোদনের জন্য যাবে উচ্চকক্ষ হাউস অফ লর্ডসে। সেখানে এই বিলের চুলচেরা বিচার হবে। যাতে আরও কয়েক মাস কেটে যেতে পারে।
যদিও পার্লামেন্টে এই বিল পাশের খবরেই লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে বহু বৃদ্ধবৃদ্ধা আনন্দে কেঁদে ফেলেন। পার্লামেন্টের বাইরে তাঁরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও স্বেচ্ছামৃত্যুর দাবি লেখা টিশার্ট পরে এসে জমায়েত হয়েছিলেন। এই বিল দেশের সামাজিক প্রজন্মের গভীরে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে অনেকের মত।
টার্মিনালি ইল অ্যাডাল্টস (এন্ড অফ লাইফ) নামের এই বিলের বিষয়বস্তু হচ্ছে বাঁচার ইচ্ছা ফুরিয়ে এলে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার সংরক্ষণ। মানসিকভাবে শক্তিশালী, চিকিৎসার বাইরে চলে যাওয়া কষ্ট পাওয়া প্রাপ্তবয়স্করা যাঁদের আর ৬ মাস বা তার কম সময় বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁরা এই পথ বেছে নিতে পারবেন। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের নাগরিকরা চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ নিতে পারবেন। নিজে থেকে মৃত্যুর কোনও উপায় বের করে নয়।
যাঁরা স্বেচ্ছামৃত্যু চান, তাঁদের অন্তত দুজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সই করা অনুমতি এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি প্যানেলের সম্মতি নিতে হবে। বিলের প্রস্তাবক লেবার পার্টির এমপি কিম লিডবিটার বলেন, এই আইন পরিবর্তনে জীবনের শেষ ধাপে চলে যাওয়া অসুস্থ মানুষ সহানুভূতির কামনা করে নিরাপদে আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারবেন। উল্লেখ্য, এই বিল ১০ বছর আগে পার্লামেন্টে পেশ করেও পাশ হতে পারেনি। অতি সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ৭৩ শতাংশ মানুষ এই বিলের সমর্থনে রয়েছেন।
বিলের সমর্থনে একদল জনতা থাকলেও শুক্রবারই পার্লামেন্টের বাইরে এই আইনের বিরোধিতায় পাল্টা জমায়েত হয়। একদিকে সমর্থক অন্যদিকে বিরোধিতা করে প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান ওঠে, কিল দ্য বিল, নট দ্য ইল। যাঁরা সমর্থক তাঁদের হাতে ছিল, মাই লাইফ, মাই ডেথ লেখা প্ল্যাকার্ড। বিলের সমর্থক ডেভিড ওয়াকার নামে ৮২ বছরের এক বৃদ্ধ পার্লামেন্টের বাইরে সংবাদ সংস্থাকে বলেন, তাঁর স্ত্রী মৃত্যুর আগে তিন বছর ধরে কী অমানুষিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন, তা তিনি দেখেছেন। সে কারণেই আজ আমি এখানে, বলেন ওয়াকার।

অন্যদিকে, বিলের বিরোধীদের দাবি, শুশ্রুষা দাও, হত্যার অধিকার চাই না। বিলকে খতম করো, অসুস্থকে নয়। এলিজাবেথ বার্ডেন নামে ৫২ বছর বয়সি এক ডাক্তার বলেন, এই বিলে সবুজ সংকেত দিলে স্বেচ্ছামৃত্যুর দাবির বাঁধ খুলে যাবে। এটা কিন্তু ঢালু জমি তৈরি করার মতো পদক্ষেপ। একবার যদি আইন হয়ে যায়, তাহলে বন্যার তোড়ের মতো অনুরোধ আসতে থাকবে। প্রসঙ্গত, ব্রিটেনের আগে এই আইন পাশ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যেও।