Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

১২ ফুট উচ্চতা, বিশালাকার শরীর! আফ্রিকার জঙ্গলে হদিশ মিলল বিশ্বের বৃহত্তম ‘ভূতুড়ে’ হাতির

১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া অ্যাঙ্গোলার দীর্ঘ ২৭ বছরের গৃহযুদ্ধের ফলে দেশের বিস্তীর্ণ উচ্চভূমি অঞ্চল কার্যত অজানাই থেকে গিয়েছিল। প্রায় ইংল্যান্ডের সমান আয়তনের এই দুর্গম ভূখণ্ডে মানুষের বসতি খুবই কম। গবেষকদের মতে, এমন পরিবেশই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণী—হাতির—লুকিয়ে থাকার আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছিল। 

১২ ফুট উচ্চতা, বিশালাকার শরীর! আফ্রিকার জঙ্গলে হদিশ মিলল বিশ্বের বৃহত্তম ‘ভূতুড়ে’ হাতির

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 12 March 2026 14:20

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু বছর ধরে অ্যাঙ্গোলার দুর্গম জঙ্গল নিয়ে একটি অদ্ভুত গল্প প্রচলিত ছিল—সেখানে নাকি রয়েছে ‘ ভূতুড়ে হাতি’ (Ghost Elephants)। এখানে কোনও ভূতের গল্প নেই। যে সব হাতির কথা হচ্ছে তারা আড়ে বহরে এতটাই বড় যে তাদের ভুতুড়ে বলা হয়। আরও বলা হয় এই কারণেই যে, কেউ তাদের স্পষ্টভাবে দেখেনি, কিন্তু তাদের উপস্থিতির নানা চিহ্ন নাকি পাওয়া যেত। অনেকেই এটিকে নিছক লোককথা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। 

সিএনএন–এর (CNN) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযাত্রী ও সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী স্টিভ বয়েস দীর্ঘদিন ধরে অ্যাঙ্গোলার দুর্গম মালভূমিতে এই রহস্যময় হাতির খোঁজ করছিলেন। ২০২৪ সালে বসানো মোশন ক্যামেরায় বিশাল আকারের হাতির ছবি ধরা পড়ার পর আবারও শুরু হয় অনুসন্ধান। এই অভিযানের গল্প নিয়েই জার্মান চলচ্চিত্র পরিচালক ভের্নার হার্জগ তৈরি করেছেন ডকুমেন্টারি ঘোষ্ট এলিফ্যান্টস (Ghost Elephants)।

১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া অ্যাঙ্গোলার দীর্ঘ ২৭ বছরের গৃহযুদ্ধের ফলে দেশের বিস্তীর্ণ উচ্চভূমি অঞ্চল কার্যত অজানাই থেকে গিয়েছিল। প্রায় ইংল্যান্ডের সমান আয়তনের এই দুর্গম ভূখণ্ডে মানুষের বসতি খুবই কম। গবেষকদের মতে, এমন পরিবেশই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণী—হাতির—লুকিয়ে থাকার আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছিল। 

স্টিভ বয়েস প্রায় এক দশক ধরে সেখানে গবেষণা চালান। ১৮০টিরও বেশি ক্যামেরা ট্র্যাপ, সেন্সর এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করেও দীর্ঘদিন কোনও হাতির দেখা মেলেনি। তবে সাত বছর পর এক রাতে ক্যামেরায় ধরা পড়ে একটি স্ত্রী হাতির ছবি। সেটাই ছিল প্রথম নিশ্চিত প্রমাণ এরপর ২০২৪ সালের অভিযানে বয়েস এবং তাঁর দল সরাসরি একটি বিশাল আকৃতির হাতির মুখোমুখি হন। তাঁর মতে, সেই হাতিটি প্রায় ১২ ফুট লম্বা এবং সাধারণ আফ্রিকান হাতির তুলনায় অনেক বড়। গবেষকদের ধারণা, এটি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবিত হাতিদের অন্যতম।

অ্যাঙ্গোলার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের নকাঙ্গালা জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি লোককথা প্রচলিত রয়েছে—তারা নিজেদের হাতির সন্তান বলে মনে করে। বহু বছর ধরে তারা এই হাতিদের রক্ষা করে আসছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই হাতিদের জিনগত বৈশিষ্ট্য আফ্রিকার অন্য হাতিদের থেকে আলাদা। বিজ্ঞানীদের মতে, তারা বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ওই অঞ্চলে বাস করছে।স্টিভ বয়েস এখন এই বিরল হাতিদের সুরক্ষার জন্য কাজ করছেন। তিনি “লিসিমা ফাউন্ডেশন” নামে একটি সংস্থা তৈরি করেছেন, যার লক্ষ্য ওই অঞ্চল এবং সেখানে থাকা জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অ্যাঙ্গোলার Lisima lya Mwono অঞ্চলকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে রামসার কনভেনশনের আওতায়।গবেষকদের মতে, ‘ভুতুড়ে হাতি’র সন্ধান পাওয়া শুধু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, বরং আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ সংরক্ষিত অরণ্য তৈরি করার পথও খুলে দিতে পারে।


```