খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনা, ‘নরকের দরজা খোলা থাকবে’। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভাল সময়ে খামেনেইয়ের সঙ্গে সেনা সদস্যরা
শেষ আপডেট: 1 March 2026 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরান নতুন করে ইজরায়েল (Israel) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর (United States) সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। এই হামলার প্রেক্ষাপট আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-র হত্যাকাণ্ড। দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হয়েছে শুনেই কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। এবার সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তব রূপ দেখা গেল।
২৭ মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য, ইসরায়েলে রেড অ্যালার্ট
আইআরজিসি দাবি করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। ইসরায়েলের নেগেভ ও ডেড সি অঞ্চলে বেজেছে রেড অ্যালার্ট সাইরেন। তেল আভিবে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে রবিবার। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয় হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বাহরেইনের (Bahrain) রাজধানী মানামাতেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে সতর্কতা জারি হয়েছে ইতিমধ্যেই। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ভারত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি বহনকারী একটি এমএসটি-শ্রেণির যুদ্ধ সহায়ক জাহাজে আক্রমণ করা হয়েছে।
‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযান’—আইআরজিসির বার্তা
খামেনেইর মৃত্যুর পর আইআরজিসি ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণাত্মক অভিযানে’র হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তাদের বক্তব্য, শত্রুপক্ষকে চরম মূল্য চোকাতে হবে। এই হামলাকে সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ এর আগে মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে প্রতিশোধ ও পাল্টা প্রতিশোধের চক্র দ্রুত ঘুরছে।
জাতিসংঘের উদ্বেগ, বিশ্বে চাপ বাড়ছে
পরিস্থিতির তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ (United Nations)। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (Antonio Guterres) বলেছেন, এই ধরনের ব্যাপক সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেই ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, তেলবাজার, বাণিজ্যপথ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত পশ্চিম এশিয়া কার্যত উচ্চ সতর্কতায়। এখন নজর—এই উত্তেজনা আর কত দূর গড়ায়।