বর্তমানে স্কটল্যান্ড সফরে রয়েছেন ট্রাম্প। সেখান থেকেই ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে তিনি জানান, পৃথকভাবে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই-এর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 27 July 2025 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দেশের সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে শান্তির আলো দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের প্রধানরা সংঘর্ষবিরতি ও শান্তি সংক্রান্ত আলোচনায় বসতে রাজি। বিগত তিন দিনের সীমান্ত সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৩৩ জনের, ঘরছাড়া এক লক্ষ তিরিশ হাজারেরও বেশি মানুষ।
বর্তমানে স্কটল্যান্ড সফরে রয়েছেন ট্রাম্প। সেখান থেকেই ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে তিনি জানান, পৃথকভাবে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই-এর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। দুই নেতাকেই ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি বিপন্ন হবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, 'উভয় পক্ষই শান্তি চাইছে। তাঁরা আবার বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী।' পোস্টে আরও দাবি করেন, 'তাঁরা দ্রুত সাক্ষাতে সম্মত হয়েছেন এবং অবশ্যই সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটছেন।' তবে এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কিংবা দুই দেশের কোনও দূতাবাস এই আলোচনার সময় বা স্থান নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি।
থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ফেসবুক পোস্টে জানান, তাঁদের দেশ ‘নীতিগতভাবে’ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি, তবে কম্বোডিয়ার তরফে ‘সত্যিকারের সদিচ্ছা’ থাকতে হবে। দ্বিপাক্ষিক স্থায়ী শান্তি আলোচনার বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধও জানান।
গত এক দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘর্ষে শনিবার নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায় থাইল্যান্ডের ট্রাট প্রদেশ ও কম্বোডিয়ার পুরসাত প্রদেশে, যেটা প্রাথমিক সংঘর্ষস্থলের ১০০ কিমিরও বেশি দূরে।
কীভাবে পরিস্থিতি এত জটিল হল? টানাপড়েনের সূত্রপাত হয় মে মাসে কম্বোডিয়ার এক সেনার মৃত্যুর পর। তারপর থেকেই দুই দেশের সীমান্তে সেনা মোতায়েন শুরু হয়। বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে একাধিক প্রাচীন হিন্দু মন্দির, বিশেষ করে ইউনেস্কো-ঘোষিত হেরিটেজ সাইট ‘প্রিয়াহ বিহার’, যা ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে কম্বোডিয়াকে দেওয়া হলেও থাইল্যান্ড কখনও তা মেনে নেয়নি।
শনিবার পর্যন্ত থাইল্যান্ড জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের ২০ জন (৭ সেনা, ১৩ জন স্থানীয় বাসিন্দা) প্রাণ হারিয়েছেন। কম্বোডিয়া বলেছে, তাদের ১৩ জন (৫ সেনা, ৮ স্থানীয়)-এর মৃত্যু হয়েছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড বেআইনি সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। পাল্টা থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে, কম্বোডিয়া সীমান্তে ল্যান্ড মাইন পুঁতছে এবং সীমান্ত লঙ্ঘন করছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় শনিবার কম্বোডিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় নাগরিকদের সীমান্ত অঞ্চলে ভ্রমণ এড়াতে অনুরোধ করেছে। শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে থাইল্যান্ড আন্তর্জাতিক মহলের কাছে কম্বোডিয়ার ‘আক্রমণাত্মক মনোভাব’ তুলে ধরে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া আবার আন্তর্জাতিক আদালতের হস্তক্ষেপ চাইলেও থাইল্যান্ড তা মানতে রাজি নয়।
সুতরাং, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা স্বস্তির দিকে গেলেও, আগামী আলোচনাতেই নির্ধারিত হবে দুই দেশের ভবিষ্যত পথচলা, যুদ্ধ না শান্তি।