মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন প্রকাশ্যে জানান, ইরানের দিকে ‘বিরাট বাহিনী’ নিয়ে এগোচ্ছে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ, তার ঠিক এক দিনের মাথায় এই হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক।

আয়তোল্লা খামেনেই এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 24 January 2026 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় (Middle East Tension) নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আমেরিকার যে কোনও সামরিক হামলাকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখবে ইরান (US Iran Conflict)- ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এমনই কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump) যখন প্রকাশ্যে জানান, ইরানের দিকে ‘বিরাট বাহিনী’ নিয়ে এগোচ্ছে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ (American Navy), তার ঠিক এক দিনের মাথায় এই হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের (Iran) এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক।
আন্তর্জাতিক এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই আধিকারিক স্পষ্ট বলেন, “এবার যে কোনও হামলাকেই আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখব। আর তার জবাব হবে সবচেয়ে কঠোর।” তাঁর কথায়, আমেরিকার লাগাতার সামরিক হুমকির মুখে ইরান তার হাতে থাকা সমস্ত শক্তি ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
এই সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার একটি বিশাল নৌবহর (American Navy) ইরানের দিকে রওনা হয়েছে। কয়েক দিন আগেই যদিও মনে করা হচ্ছিল, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থেকে কিছুটা সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে রক্তাক্ত দমননীতির জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প তখন কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছিলেন বলে ধারণা তৈরি হয়েছিল।
নতুন বছরের শুরু থেকেই আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ইরানে চলা বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ, এমনটাই দাবি আন্দোলনকারীদের। এই পরিস্থিতিতেই ফের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
আমেরিকার এক সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-সহ তিনটি ডেস্ট্রয়ার, যেগুলি টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত, তা আরব দুনিয়ার দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি, মার্কিন বায়ুসেনাও অন্তত এক ডজন F-15E যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলে মোতায়েন করেছে।
ইরানের ওই আধিকারিক জানান, দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ কী রকম হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেননি। তাঁর বক্তব্য, “আমরা আশা করি এই সামরিক সমাবেশ প্রকৃত সংঘাতের উদ্দেশ্যে নয়। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের সেনা প্রস্তুত। তাই গোটা ইরান এখন হাই অ্যালার্টে।”
গত সপ্তাহে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর হুমকির জেরেই ইরান ৮০০-র বেশি আটক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া থেকে সরে এসেছে। সেই আশ্বাসের পরেই নাকি সামরিক হুঁশিয়ারি কিছুটা কমান তিনি।
কিন্তু ডাভোস সফর সেরে আমেরিকায় ফেরার পর ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হলে ‘বিশ্বে আগুন লেগে যাবে’। একই সুরে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কমান্ডার জানান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের দিকে লক্ষ্য রেখে তাঁদের ‘আঙুল ট্রিগারে’ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই ফের সংঘাতের আশঙ্কায় কাঁপছে আরব দুনিয়া।