এই হাস্যরসের আড়ালেও রয়েছে গুরুতর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেনমার্কের অধীনস্থ এই আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিলেন।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 24 January 2026 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিনল্যান্ড (Greenland) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) আগ্রহ নতুন নয়। ইউরোপের উপর শুল্ক চাপানোর হুমকি আপাতত স্থগিত থাকলেও, আর্কটিক অঞ্চলের এই ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ও কৌশলগত মনোযোগ যে এখনও অটুট, তা আরও একবার স্পষ্ট করল হোয়াইট হাউস (White House)। শনিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Image) দিয়ে তৈরি ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ওই ছবিতে দেখা যায়, ৭৯ বছরের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পেঙ্গুইনের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। ছবিটির সঙ্গে লেখা ছিল - Embrace the Penguin। কিন্তু এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও বিদ্রুপ। কারণ, বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডে পেঙ্গুইনের (Penguin) কোনও অস্তিত্বই নেই।

ভূগোল অনুযায়ী, পেঙ্গুইন শুধুমাত্র দক্ষিণ গোলার্ধের প্রাণী। অ্যান্টার্কটিকা এবং তার আশপাশের অঞ্চলে এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড অবস্থিত উত্তর গোলার্ধে। এই মৌলিক তথ্য উপেক্ষা করেই এমন একটি ছবি প্রকাশ করায় হোয়াইট হাউসকে কার্যত ‘রিয়ালিটি চেক’ দিয়েছে নেটদুনিয়া।
টুইটারে (বর্তমানে এক্স) অসংখ্য ব্যবহারকারী এই পোস্টের জবাবে নিজেদের তৈরি AI-চিত্র পোস্ট করেন। কোথাও দেখা যায়, ট্রাম্পকে অ্যান্টার্কটিকায় দাঁড়িয়ে থাকতে, কোথাও আবার তাঁকে পেঙ্গুইনকে ভূগোল শেখাতে।
তবে এই হাস্যরসের আড়ালেও রয়েছে গুরুতর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেনমার্কের অধীনস্থ এই আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিলেন। তার জেরে ডেনমার্ক এবং ইউরোপের একাধিক মিত্র দেশ গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন ট্রাম্প ইউরোপের সাতটি দেশ এবং ব্রিটেনের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সেই শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এমন একটি কাঠামো শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে, যা ইউরোপ ও আমেরিকা - উভয়েরই স্বার্থে উপযোগী হবে।
সব মিলিয়ে, পেঙ্গুইনের ভুল ছবি হয়তো মুহূর্তের হাস্যরস এনে দিয়েছে। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত আগ্রহ যে এখনও জোরালো, তা স্পষ্টই করে দিল হোয়াইট হাউসের এই বিতর্কিত পোস্ট।
এই প্রথম নয়। এর আগেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন ট্রাম্প নিজে। সেই পোস্টে দেখা গেছিল, তিনি নিজে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) গ্রিনল্যান্ডের বরফে দাঁড়িয়ে মার্কিন পতাকা উত্তোলন করছেন। ছবিটির পাশে একটি বোর্ডে লেখা - GREENLAND – US TERRITORY, EST. 2026”।
এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। একই দিনে ট্রাম্প আরেকটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ওভাল অফিসে বসে থাকা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক শীর্ষ নেতার পেছনে একটি বদলে দেওয়া মানচিত্র দেখা যায়। সেই মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা এবং ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা ঘিরে কূটনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়।