যদিও পাকিস্তানকে গাজা প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বাইরে সরিয়ে দেওয়ার এই অবস্থানের মধ্যেও ট্রাম্পের সামগ্রিক শান্তি পরিকল্পনার প্রশংসা করেছেন বারকাত। তাঁর মতে, এই কাঠামো রাষ্ট্রপুঞ্জের তুলনায় বেশি কার্যকর, কারণ রাষ্ট্রপুঞ্জ পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শাহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 24 January 2026 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজা ও ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক শান্তি ব্যবস্থাকে (Gaza Peace Plan) সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ (Board of Peace) সই করেও বিতর্কের কেন্দ্রে পাকিস্তান। ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (World Economic Forum) ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Pakistan PM Shehbaz Sharif)। বিশ্বের মাত্র কুড়িটি দেশের নেতা এই প্রস্তাবে সই করেছেন, যার মধ্যে ইজরায়েলও (Israel) রয়েছে। কিন্তু সইয়ের পরই তাঁদের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে - গাজার রূপান্তর বা শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পাকিস্তানের কোনও ভূমিকা মেনে নেবে না তেল আভিভ।
ডাভোসে এক সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলের অর্থমন্ত্রী নির বারকাত সরাসরি পাকিস্তানের (Pakistan) নাম করে অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া দেশগুলির কোনও ভূমিকা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, “যে দেশগুলি সন্ত্রাসকে সমর্থন করেছে, তারা স্বাগত নয়, পাকিস্তানও তার ব্যতিক্রম নয়।” গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কাতার, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের মতো দেশগুলিকে ইজরায়েল মাটিতে সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেবে না। তাঁর অভিযোগ, এই দেশগুলি গাজায় সক্রিয় জিহাদি সংগঠনগুলির প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাই তাদের উপর ভরসা করা সম্ভব নয়।
যদিও পাকিস্তানকে গাজা প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বাইরে সরিয়ে দেওয়ার এই অবস্থানের মধ্যেও ট্রাম্পের সামগ্রিক শান্তি পরিকল্পনার প্রশংসা করেছেন বারকাত। তাঁর মতে, এই কাঠামো রাষ্ট্রপুঞ্জের তুলনায় বেশি কার্যকর, কারণ রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN) পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিয়েছে।
এই কূটনৈতিক অস্বস্তির পাশাপাশি দেশের ভিতরেও চাপে পড়েছেন শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানে বহু মহলেই প্রশ্ন উঠেছে, কেন এমন একটি প্রস্তাবে সই করল ইসলামাবাদ, যা অনেকের মতে প্যালেস্টাইনের স্বার্থের পরিপন্থী। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে।
এক বিবৃতিতে পিটিআই জানায়, আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে অংশগ্রহণ অবশ্যই রাষ্ট্রপুঞ্জের বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা উচিত, তার বিকল্প কোনও সমান্তরাল কাঠামো তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। দলটির দাবি, এই সিদ্ধান্তের উপর জাতীয় গণভোট হওয়া প্রয়োজন।
চাপ আরও বাড়িয়েছে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলও। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের বিরোধী দলনেতা এবং মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিন (এমডব্লিউএম)-এর প্রধান আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এই প্রস্তাবে সই করাকে 'নৈতিকভাবে ভুল ও অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার (Gaza Board Of Peace) লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যে ‘বোর্ড অব পিস’ (Board Of Peace) গঠন করেছেন, তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। সুইৎজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (World Economic Forum) বৈঠকের ফাঁকে এই বোর্ডের সূচনা হলেও, এতে যোগ দেয়নি ভারত। শুধু ভারতই নয়, আমেরিকা ছাড়া রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোনও স্থায়ী সদস্য বা জি-৭ গোষ্ঠীর (G7) কোনও দেশও এখনও এই বোর্ডে নাম লেখায়নি।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে প্রায় ৬০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও, বিষয়টি নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারত (India)। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ভারতীয় পক্ষ অনুষ্ঠানের দিকে নজর রেখেছিল, কিন্তু ডাভোসে কোনও সরকারি প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বোর্ডের কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়ে দিল্লির একাধিক উদ্বেগ রয়েছে।