একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর ক্ষতি হলে ইরানকে 'পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে'। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
.jpeg.webp)
আয়তোল্লা খামেনেই এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 24 January 2026 07:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার (USA) কড়া ভাষা ও প্রকাশ্য হুমকিতে বিচলিত নয় ইরান (Iran), বরং যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত তেহরান (US Iran Conflict)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে এই বার্তাই স্পষ্ট করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বক্তব্য নতুন নয় এবং ইরান সব রকম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।
এক সাক্ষাৎকারে ইলাহি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের (US Iran Conflict) মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, বিশেষ করে দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা এবং সম্ভাব্য প্রতিশোধের হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বলেছিলেন, তাঁর ক্ষতি হলে ইরানকে 'পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে'। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য, এই ধরনের হুমকি চলতে থাকলে গোটা ইরান 'ধ্বংস করে দেওয়া হবে'। শুধু তাই নয়, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি এবং দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উত্তেজনার আবহে পেন্টাগন আরব দুনিয়া-সহ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাভুক্ত এলাকায় একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পুনরায় মোতায়েন করছে।
এই প্রেক্ষিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইলাহি। তিনি জানান, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়নি এবং ভবিষ্যতেও সেই পথে হাঁটবে না। তাঁর দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সাইয়েদ আলি খামেনেইয়ের জারি করা ধর্মীয় নির্দেশ বা ফতোয়া অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্র ‘হারাম’। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম চিকিৎসা, শক্তি উৎপাদন ও মানবিক প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ বলে তিনি জানান।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নজরদারি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইলাহি। তাঁর অভিযোগ, ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর পর্যবেক্ষণ চাপানো হলেও অন্য পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলির ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল।
উত্তেজনার মাঝেও ইরান স্থিতাবস্থার পক্ষেই রয়েছে বলে দাবি করেন ইলাহি। তাঁর সতর্কবার্তা, সংঘাত আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু ইরানে নয়, গোটা আরব দুনিয়া জুড়েই পড়বে। তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তাই ইরানের লক্ষ্য, কিন্তু কিছু পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা তৈরি করছে।
প্রতিবাদের সময় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাবও দেন ইলাহি। তাঁর দাবি, বিদেশ থেকে কিছু গোষ্ঠী সামাজিক মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে অশান্তি উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতেই আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, যদিও দেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট পরিষেবা চালু ছিল।
আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইলাহি। তাঁর মতে, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রভাব হারিয়েছে এবং শক্তিশালী দেশগুলির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাষ্ট্রসংঘের জরুরি বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা নেবে।