সাবেক সোভিয়েত আমলে তৈরি কাবুলের ঠিক উত্তরাংশে যুদ্ধ-কৌশলের রত্নবিশেষ বাগরাম বায়ুসেনা ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করলে আমেরিকার বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধে যাবে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান।

পাকিস্তানকেও ফল ভুগতে হবে হুমকি দিয়েছে তালিবান।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে চিন ও রাশিয়ার বন্ধু আফগানিস্তান সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফের মুখোমুখি যুদ্ধের হুমকি দিল। সাবেক সোভিয়েত আমলে তৈরি কাবুলের ঠিক উত্তরাংশে যুদ্ধ-কৌশলের রত্নবিশেষ বাগরাম বায়ুসেনা ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করলে আমেরিকার বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধে যাবে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান। শুধু তাই নয়, আমেরিকার লেজুড়গিরি করলে কিংবা তাদের সাহায্য করলে পাকিস্তানকেও ফল ভুগতে হবে হুমকি দিয়েছে তালিবান।
কান্দাহারে আফগান তালিবান নেতৃত্ব এ বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এর আগেই ট্রাম্পের মুখে বাগরাম বিমান ঘাঁটি দখল করার বিরুদ্ধে মুখ খুলে তালিবান প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, আর কোনওভাবেই মার্কিন সেনাকে আফগান মাটিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বাগরাম বিমান ঘাঁটির এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না আফগানিস্তান।
গত শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা ভাবছি আবার বাগরাম বিমান ঘাঁটি অধিকারে নেব। আমি এখনও তালিবানের সঙ্গে কথা বলিনি। তবে আমি যদি নিতে চাই, আর ওরা যদি আপত্তি তোলে, তাহলে কী পরিণতি হবে সকলেই দেখতে পাবে। এর জবাবে তৎক্ষণাৎ কাবুল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা যে হটেছে, তারপর আর তাদের পা ফেলতে দেওয়া হবে না।
পরে তালিবান নেতৃত্ব আলাদা একটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, আমেরিকাকে যদি পাকিস্তান কোনওভাবে সাহায্য করে তাহলে ইসলামাবাদকেও সরাসরি সংঘর্ষে যেতে হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত প্রদেশে পাক তালিবানের যথেষ্ট প্রতিপত্তি আছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বালুচিস্তানের জন্য লড়াই চালাচ্ছে সেখানকার লিবারেশন আর্মি। তার উপর গতকাল, সোমবার দুপুরে খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান গোষ্ঠীর বোমা তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার নামে চিনা যুদ্ধ বিমানে বোমাবর্ষণ করে ৩০ জন সাধারণ মানুষকে মেরে ফেলেছে ইসলামাবাদ প্রশাসন। তা নিয়েও খেপে রয়েছে পাশতুন মহল্লা।
তালিবান সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লা আখমুন্দজাদা সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে গুপ্তচর বাহিনী, সেনা ও উলেমাদের মাথারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ট্রাম্পের প্রচ্ছন্ন হুমকি ও পাকিস্তানের সহযোগিতার প্রশ্ন। কিছুদিন আগেই পাকিস্তান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের চুক্তি সেরেছে। সেদিক থেকে পাকিস্তানের মার্কিন খিদমতগিরি নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে আফগানিস্তানের। কারণ আল কায়েদা সুপ্রিমো ওসামা বিন লাদেনকে আমেরিকার খতম করার পিছনে সরাসরি পাকিস্তানের হাত ছিল। তাই আমেরিকা প্রসঙ্গে দেশের কান ঘেঁষা পাকিস্তানকে নিয়ে কাবুল প্রশাসনের দুশ্চিন্তা বেশি।
সে কারণে বৈঠকে স্থির হয়েছে, দরকার হলে ট্রাম্পের সঙ্গে ফের যুদ্ধ হবে। তবে পাকিস্তান যদি তাদের জমি-জায়গা দিয়ে যুদ্ধে সাহায্য করে, তাহলে ইসলামাবাদেরও নিস্তার নেই। পাকিস্তানকেও আফগানিস্তানের ইসলামিশাহির শত্রু বলে ঘোষণা করে হবে। তালিবান প্রশাসন ট্রাম্পের হুকুমতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক প্রচার শুরু করেছে। সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া, চিন ছাড়াও তারাও ইরান, পাকিস্তান, কাতার, আরব আমিরশাহি, সৌদি এমনকী ভারতের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করেছে। সকলকে আমেরিকার যুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে তালিবান প্রশাসন।