মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক চাপিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতকে নিশানা করেছে ওয়াশিংটন।

ভ্লাদিমির পুতিন এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 1 September 2025 23:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার বৈঠক করেন ভারতের (India) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও রাশিয়ার (Russia) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি কেনা বন্ধ করবে না ভারত, তা-ই যেন নতুন করে স্পষ্ট হয়ে গেল দুই নেতার কথায়।
প্রায় এক ঘণ্টার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি গাড়িতে যাওয়ার সময়ে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আলোচনাও করেছেন তাঁরা। মোদীকে সম্মেলনস্থল থেকে হোটেল পর্যন্ত নিজের গাড়িতে পৌঁছে দেন পুতিন। পরবর্তী সময়ে বৈঠকের প্রেক্ষিতে মোদী বলেন, “ভারত-রাশিয়া সবসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থেকেছে। আমাদের সহযোগিতা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” একই সঙ্গে ডিসেম্বরেই ভারত সফরে (India Tour) আসার জন্য পুতিনকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
পুতিনও মোদীকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করে বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক বহু দশক ধরে আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে।”
দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) নিয়েও আলোচনা করেন। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে স্বাগত জানান পুতিন। মোদী বলেন, “সংঘাত বন্ধ করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে বের করাই এখন জরুরি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক চাপিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতকে নিশানা করেছে ওয়াশিংটন। তবে ভারত জানিয়েছে, শক্তি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থই তাদের প্রধান লক্ষ্য, তৃতীয় কোনও দেশের চাহিদা নয়।
বর্তমানে ভারতের আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য রেকর্ড ছুঁয়েছে প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও ভারতের রফতানি মাত্র ৪.৮৮ বিলিয়ন ডলারে আটকে থাকায় বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে চিন্তিত দিল্লি।
যদিও সব মিলিয়ে, মার্কিন চাপের মধ্যেও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করাই বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছে নয়াদিল্লি। সেটা আরও বেশি করে ধরা পড়েছে এসসিও সামিটে। এদিন বৈঠকের আগে প্রায় দশ মিনিট মোদীর জন্য অপেক্ষা করেন পুতিন। তারপর নিজস্ব গাড়িতেই (Own Car) তাঁকে নিয়ে যান রিটজ-কার্লটন হোটেলে। শুধু তাই নয়, পৌঁছনোর পরও প্রায় ৪৫ মিনিট গাড়িতেই আলোচনা চালান দুই নেতা।
এছাড়া এদিন সম্মেলনের ফাঁকেই ধরা পড়ে আরও এক নজিরবিহীন দৃশ্য। পুতিন, মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হাসিমুখে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। তিন রাষ্ট্রনেতার একজোট হওয়ার মুহূর্তকে অনেকে নতুন শক্তির সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।