দুই নেতার এই ভ্রমণ শুধু সৌজন্য নয়, কূটনৈতিক বার্তাও বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে সরব, তখন মোদী-পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বিষয়টির গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিল বলেও মত।

একই গাড়িতে নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্লাদিমির পুতিন
শেষ আপডেট: 1 September 2025 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের (China) তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে ধরা পড়ে এক বিরল মুহূর্ত। সম্মেলনস্থল থেকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জায়গায় একই গাড়িতে যাত্রা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)।
দুই নেতার এই ভ্রমণ শুধু সৌজন্য নয়, কূটনৈতিক বার্তাও বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যখন ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে সরব, তখন মোদী-পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বিষয়টির গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিল বলেও মত।
সূত্রের খবর, বৈঠকের আগে প্রায় দশ মিনিট মোদীর জন্য অপেক্ষা করেন পুতিন। তারপর নিজস্ব গাড়িতেই (Own Car) তাঁকে নিয়ে যান রিটজ-কার্লটন হোটেলে। শুধু তাই নয়, পৌঁছনোর পরও প্রায় ৪৫ মিনিট গাড়িতেই আলোচনা চালান দুই নেতা। পরে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (Meeting)।
ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। অভিযোগ, রাশিয়ার তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থ জুগোচ্ছে দিল্লি। যদিও ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় স্বার্থই শক্তি আমদানির নীতি নির্ধারণ করবে। মার্কিন চাপকে 'অন্যায়' ও 'অযৌক্তিক' বলে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
সেই প্রেক্ষিতে মোদী-পুতিন বৈঠক ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে মস্কো ও দিল্লি। একই সঙ্গে পুতিন প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন ভারত ও চিনের ইউক্রেন সঙ্কট মেটানোর প্রচেষ্টার।
এছাড়া এদিন সম্মেলনের ফাঁকেই ধরা পড়ে আরও এক নজিরবিহীন দৃশ্য। পুতিন, মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হাসিমুখে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। তিন রাষ্ট্রনেতার একজোট হওয়ার মুহূর্তকে অনেকে নতুন শক্তির সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
শনিবার বিশেষ বিমানে চিনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi)। পরদিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বৈঠক। রবিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত ফ্যামিলি ফটো সেশনে পাশাপাশি দাঁড়াতে দেখা যায় একাধিক বিশ্বনেতাকে। সেখানেই এক সারিতে দাঁড়ান মোদী ও শাহবাজ শরিফ। যদিও তাঁরা একে অপরের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
পহেলগাম হামলা (Pahalgam Terror Attack) ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্ব নতুন করে চরমে উঠেছিল। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একই ছবিতে একসঙ্গে ধরা পড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু পাকিস্তান নয়, ছবিতে একে একে দাঁড়িয়েছিলেন তুরস্ক এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানরাও - যাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কূটনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, মোদী দাঁড়িয়েছিলেন ‘শত্রু পরিবেষ্টিত’ এক ফ্রেমে।
সাত বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে প্রথমবার চিন সফরে গেছেন নরেন্দ্র মোদী। এসসিও বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। বিগত কয়েক বছরে ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। মোদীর এই সফর সেই ক্ষততে মলমের কাজ করছে বলেও মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।