পরিবারের দাবি, ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ দুশ্চিন্তাই শেষমেশ প্রাণ কেড়ে নিল নির্মলচন্দ্র পালের। এলাকায় ছড়িয়েছে ক্ষোভ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 September 2025 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলঘরিয়া (Belgharia Incident) নন্দননগরে প্রকাশ্যে মদ্যপান নিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষক (Teacher Protest) মার খাওয়ার ঘটনার রেশ কাটেনি এখনও। তার মধ্যে অভিযুক্তদের জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত (Heart Attack) হয়ে মারা গেলেন সেই শিক্ষকের বাবা (Teachers Father Death)। পরিবারের দাবি, ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ দুশ্চিন্তাই শেষমেশ প্রাণ কেড়ে নিল নির্মলচন্দ্র পালের। এলাকায় ছড়িয়েছে ক্ষোভ।
অভিযোগ মোতাবেক, শনিবার সকাল ৬টা নাগাদ একটি নিমন্ত্রণবাড়ি থেকে নন্দনপুর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন নিরুপম। রাস্তার ধারে চার জন যুবক এবং এক যুবতীকে মদ্যপান করতে দেখেন তিনি। এর প্রতিবাদ করেন। তার পরেই পাঁচ জন মিলে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। ওই শিক্ষকের বক্তব্য, মেরে তাঁর নাক-মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়। চোখে এবং বুকেও আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা না-বাঁচালে রাস্তাতেই তিনি মারা যেতেন বলে জানিয়েছেন নিরুপম।
মারধরের এই ঘটনার ছবি ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে (CCTV Footage)। সেখানে দেখা যায় ওই শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করছেন কয়েক জন যুবক। কিল-ঘুসির পাশাপাশি লাথিও মারা হচ্ছে তাঁকে। হাত দিয়ে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করছেন প্রতিবাদী ওই শিক্ষক। এক যুবতীকেও মারধর করতে দেখা যাচ্ছে। যদিও এই ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। তবে সিসি ক্যামেরার এই ফুটেজ দেখেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার জন্য বেলঘরিয়া থানার পুলিশের কাছে আর্জি জানান ওই শিক্ষক।
গুরুতর আহত নিরুপমকে ভর্তি করা হয় সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে। পাঁচ দিন চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফেরেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেও, পরে তাঁরা জামিনে ছাড়া পান।
পরিবারের অভিযোগ, এই খবর জানার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন নিরুপমের বাবা। আশঙ্কা করছিলেন ফের হামলা হতে পারে। সেই দুশ্চিন্তার জেরেই আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু।
তবে ঘটনার অন্য দিকও সামনে এনেছে অভিযুক্ত তরুণীর পরিবার। তাঁদের দাবি, নিরুপমই তাঁদের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন, এমনকি বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। সেই কারণেই বিবাদের সূত্রপাত। একটি ভিডিও প্রকাশ করে পাল্টা দাবি জানিয়েছে ওই তরুণীর পরিবার।