'ফেস পে ফেস ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম' '২৩ সালেই চালু হয়েছে সে দেশে। যার মাধ্যমে ক্রেতারা যে কোনও বিপণিতে গিয়ে কেনাকাটা করে দাম মেটাতে পারবেন মুখ দেখিয়ে। রগড় করে বলা যেতেই পারে 'মুখ দিয়ে যায় কেনা'।

শেষ আপডেট: 2 June 2025 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি… মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে', শঙ্খ ঘোষ তাঁর মুখ দেখাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা ঢেকে গিয়েছিল বিজ্ঞাপনে। রূপ আর গুণের মধ্যে সত্যিই কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে তার আদল হল মানবীয় সর্বোত্তম গুণের অন্যতম। 'আদল' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হল সুবিচার করা।
কিন্তু আসন্ন যে দিন আসছে তাতে সুবিচারের চৌহদ্দিতে পা ঠেকবে কিনা সেটা ভাববার। এ কথা বলার কারণ, ভারতীয় শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেই পোস্ট নিয়ে কেন এত ভূমিকা লেখার প্রয়োজন পড়ল? আসলে ওই ভিডিওতে দেখা গেছে একজন ব্যক্তি শমিং মলে গিয়ে কেনাকাটা করছেন। তারপর পেমেন্ট কাউন্টারের সামনে গিয়ে কোনও নগদ টাকা বা কার্ডের বদলে নিজের মুখের আদল স্ক্যান করেই অনায়াসে দাম মিটিয়ে দিলেন।
গোয়েঙ্কা সেই ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, এদেশেও ফেসিয়াল রেকগনিশন করে পেমেন্ট... চলে এল বলে। যদিও দুবাইয়ের এই 'ফেসিয়াল রেকগনিশন পেমেন্ট সিস্টেম’ হালের ঘটনা নয়। 'ফেস পে ফেস ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম' '২৩ সালেই চালু হয়েছে সে দেশে। যার মাধ্যমে ক্রেতারা যে কোনও বিপণিতে গিয়ে কেনাকাটা করে দাম মেটাতে পারবেন মুখ দেখিয়ে। রগড় করে বলা যেতেই পারে 'মুখ দিয়ে যায় কেনা'।
Payment through facial recognition….things to come! pic.twitter.com/fLMxPh53gm
— Harsh Goenka (@hvgoenka) June 2, 2025
প্রতিদনে জিনিসপত্র কেনার পর ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে স্ক্যানারের সামনে মুখ দেখালেই ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে নির্দিষ্ট মূল্য। গোটা প্রসেসের যে ঝক্কির কোনও ব্যাপারই নেই। বরং দ্রুত ও নির্ভুল পদ্ধতিতে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে এক লহমায়।
যদিও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, 'ফেস রেকগনিশন' দিয়ে দিচ্ছি, টাকা লেনদেন হয়ে যাচ্ছে মানেই কোনও ঝুটঝামেলার বালাই নেই তা নয়। ফেস রেকগনিশন, বা মুখের আদলের স্ক্যানিং থেকে সাইবার প্রতারকরা ঠিকই একটা ফন্দি বের করে নেবে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অনায়াসে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে।
তবে এহেন ফেস রেকগনিশন সিস্টেম নতুন নয়। স্মার্ট ফোন থেকে শুরু করে অফিস কাছারি। নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি, বেসরকারি কর্মীদের অফিসে আসা নিশ্চিত করতেও এখন বায়োমেট্রিকের বদলে জায়গা করে নিয়েছে এই ফেস স্ক্যানিং পদ্ধতি। কর্মীরা অফিসে এসে এই মেশিনের সামনে দাঁড়াতেই ছবি ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারে সময় ধরে তাঁর উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়ে যায়। তবে যেটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, তা হল এযাবৎ যদি শঙ্খ ঘোষ পদ্যটি লিখতেন, তাহলে কি মুখ ঢেকে যাওয়ার কথা লিখতেন, নাকি অন্য কিছু, তা স্বয়ং তিনিই জানেন।