অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপে মার্কিনিরাও ক্ষতিগ্রস্ত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 9 October 2025 09:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-মার্কিন সম্পর্ক (US India Relation) নতুন করে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হলেন ১৯ জন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য (US Lawmakers)। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) উদ্দেশ্য করে এক খোলা চিঠিতে তাঁরা ভারতের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব’ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে (Letter) স্বাক্ষর করেছেন একাধিক বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট নেতা (Democrate Leaders) ডেবোরাহ রস, রো খান্না, ব্র্যাড শারম্যান, সিডনি কামলাগার-ডোভ, রাজা কৃষ্ণমূর্তি ও প্রমিলা জয়পাল প্রমুখ। তবে কোনও রিপাবলিকান সদস্য (Republican Leaders) এই চিঠিতে সই করেননি।
কংগ্রেস সদস্যদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (US Tariff) বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপে মার্কিনিরাও ক্ষতিগ্রস্ত।
চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন - আমরা এমন কিছু অঞ্চলের প্রতিনিধি যেখানে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায় (Indo-American) ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ভারতের সঙ্গে পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও ভাল। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে। আমরা প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিন।
নেতারা ট্রাম্পকে শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে অগ্রগতি সম্ভব। তাঁদের মতে, অযৌক্তিক শুল্কবৃদ্ধি মার্কিন নাগরিকদের জন্য দাম বাড়াচ্ছে এবং সাপ্লাই চেইন বিপর্যস্ত করছে, যার উপর নির্ভর করে আমেরিকার বহু সংস্থা পণ্য বাজারে পাঠায়।
আমেরিকার শিল্পক্ষেত্র ভারতের উপর নির্ভর করে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের জন্য। যেমন সেমিকন্ডাক্টর থেকে স্বাস্থ্য, শক্তি - সব ক্ষেত্রেই। আমেরিকান সংস্থাগুলি ভারতে বিনিয়োগ করে বিশাল বাজারে প্রবেশাধিকার পায়, আর ভারতীয় সংস্থাগুলি আমেরিকায় বিনিয়োগ করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে। এমনটাই বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।
চিন-রাশিয়া প্রসঙ্গে নেতারা আরও সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে শীতলতা তৈরি হওয়ায় ভারত রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন কৌশলের জন্য উদ্বেগজনক কারণ, ভারত ‘কোয়াড’-এর অন্যতম স্তম্ভ।
চিঠির শেষাংশে তাঁরা লিখেছেন - ভারত ও আমেরিকা উভয় দেশই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী। প্রতিরক্ষা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, উদ্ভাবন ও সাপ্লাই চেইনের মতো ক্ষেত্র জুড়ে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আজ অত্যন্ত গভীর ও বহুমাত্রিক। এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।