ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতের উপর বড়সড় শুল্ক চাপিয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য দিল্লির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে, যা আগের ২৫ শতাংশের সঙ্গে মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৫০ শতাংশে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 September 2025 07:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার (Russia) উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিল ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একযোগে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে মস্কোর অর্থনীতি ভেঙে পড়তে বাধ্য। তাঁর দাবি, এই অর্থনৈতিক পতনই একমাত্র উপায়, যাতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) আলোচনার টেবিলে আসতে রাজি হবেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'এখন পরিস্থিতি একটা দৌড়ের মতো, একদিকে ইউক্রেনের (Ukraine) সেনাদের টিকে থাকা, অন্যদিকে রাশিয়ার (Russia) অর্থনীতির স্থায়িত্ব।' তাঁর মতে, যদি পশ্চিমা দেশগুলি একসঙ্গে পদক্ষেপ নেয়, তবে রাশিয়ার পক্ষে এই চাপ সামলানো অসম্ভব হবে। বেসেন্ট বলেন, 'আমরা রাশিয়ার উপর আরও চাপ বাড়াতে প্রস্তুত, কিন্তু আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদেরও আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে।'
ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতের উপর বড়সড় শুল্ক চাপিয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য দিল্লির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে, যা আগের ২৫ শতাংশের সঙ্গে মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৫০ শতাংশে। ২৭ অগস্ট থেকে কার্যকর এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন, ভারতের এত পরিমাণ রাশিয়ান তেল কেনা তাঁকে হতাশ করেছে। যদিও তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর 'ভালো সম্পর্ক'-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে প্রস্তুত? কারণ দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক, যেমন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো, প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা ইউক্রেন যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে অর্থ জোগাচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও বাজারের উপর নির্ভরশীল, বাইরের চাপ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করবে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মোদী-ট্রাম্প সৌহার্দ্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে মার্কিন অর্থসচিবের কড়া বার্তায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আকাশে আবারও কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে।