শনিবার রাত থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার মিসাইল হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩ জনের। আগুনে জ্বলছে একাধিক প্রশাসনিক ভবন ও আবাসন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 September 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ইউক্রেনে মিসাইল ছুড়ছে রাশিয়া। রাতভর আক্রমণে কিয়েভের একাধিক এলাকা বিপর্যস্ত। ড্রোন ও মিসাইল হামলায় রবিবার সকালে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩ জনের, যাঁদের মধ্যে এক শিশু ও এক তরুণীও রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। গুরুতর আহত অন্তত ১৮ জন। শহরের একাধিক আবাসন ও প্রশাসনিক ভবন আগুনে ভস্মীভূত।
রাজধানীর সামরিক প্রশাসনিক প্রধান তিমুর ত্কাচেঙ্কো বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেচেরস্কি জেলায় কিয়েভ প্রশাসনিক ভবনের ছাদে আগুন লাগে রবিবার ভোর রাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় ইউক্রেন সরকারের প্রধান দফতরের ভবন থেকে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটশকো জানিয়েছেন, প্রথমে শহরের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এরপরই শুরু হয় মিসাইল হামলা। ড্রোন হামলায় নিহত হন দুজন। আরও পাঁচ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক গর্ভবতী মহিলাও। অপর এক ঘটনায় দারনিতস্কি জেলায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয় আশ্রয়কেন্দ্রে।
দারনিতস্কি জেলার চারতলা একটি আবাসনের দুই তলায় আগুন লাগে। ভবনের অংশ ভেঙে পড়ে ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়েন অনেকে। পশ্চিম কিয়েভের সভিয়াতশিনস্কি জেলায় একটি নয়তলা আবাসনের একাধিক তলা ধসে যায়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ১৬ তলা ও আরও দু’টি নয়তলা ভবনে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লেগেছে।
জরুরি পরিষেবা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, একাধিক আবাসনের জানলা, বারান্দা ও বহির্বিভাগ ধসে পড়েছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা।
কেবল কিয়েভ নয়, ইউক্রেনের অন্য শহরগুলিও আক্রান্ত হয়েছে রুশ হামলায়। কেন্দ্রীয় শহর ক্রেমেনচুকে বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি মলেতস্কি। ক্রিভি রিহ শহরে পরিবহণ ও নগর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের ওডেসায় বহু আবাসনে আগুন লাগে।
টেলিগ্রামে তিমুর ত্কাচেঙ্কো অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের বসতি ও অবকাঠামোকে নিশানা করছে। যদিও হামলা নিয়ে মস্কোর তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেন, উভয়ই সাধারণ মানুষকে টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবুও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
রুশ ড্রোন ও মিসাইল হামলার জেরে পশ্চিম ইউক্রেনও নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী পোল্যান্ড এদিন জানায়, আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের বিমান এবং মিত্রবাহিনীর বিমান সক্রিয় করেছে।