হার্ভার্ড থেকে পাশ করা বঙ্গসন্তান সৈকত চক্রবর্তী (Saikat Chakrabarti) এখন ন্যান্সি পেলোসির (Nancy Pelosi) বিরুদ্ধে লড়ছেন। ডেমোক্র্যাট পার্টির (Democrat Party) ব্যর্থ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তিনি তুলেছেন নতুন কণ্ঠ (US Election)।

সৈকত চক্রবর্তী ও ন্যান্সি পেলোসি।
শেষ আপডেট: 28 October 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে এক নতুন নাম উঠে এসেছে— সৈকত চক্রবর্তী। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে রাজনৈতিক কৌশলবিদে পরিণত, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী এই বঙ্গসন্তান এখন লড়ছেন ডেমোক্র্যাট দলের বর্ষীয়ান নেতা ন্যান্সি পেলোসির বিরুদ্ধে। টানা ২১তম মেয়াদে কংগ্রেসে ফেরার লক্ষ্যে প্রার্থী হয়েছেন পেলোসি। তাঁর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সৈকাত বলছেন, এখন সময় এসেছে ডেমোক্র্যাট পার্টির ভিতরেই মূলগত পরিবর্তন আনার।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৈকত তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন বর্তমান হাউস ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিসকে। তাঁর বক্তব্য, “জেফরিস ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। আমি কংগ্রেসে নির্বাচিত হলে তাঁর নেতৃত্বকে সমর্থন করব না।”
তিনি আরও বলেন, “হাকিম জেফরিসকে প্রাইমারিতে চ্যালেঞ্জ জানানো উচিত। আমি আহ্বান জানাচ্ছি, এমন সমস্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানো হোক, যাঁরা এই পার্টিকে ব্যর্থ করেছে।”
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেই সাক্ষাৎকারের ক্লিপ শেয়ার করে সৈকত লিখেছেন, “এটা শুধু আমার ভাবনা নয়। প্রায় ৮০ জন কংগ্রেস প্রার্থী জেফরিসকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছেন। আমাদের দরকার নতুন নেতৃত্ব— এমন মানুষ, যারা দেশজুড়ে উঠে এসে এই পার্টিকে নতুনভাবে গড়ে তুলবে, যেন তা একনায়কতান্ত্রিক বিপদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করা এক অর্থনীতি তৈরি করতে পারে।”
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সৈকত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরি ছেড়ে রাজনীতির জগতে প্রবেশ করেন। হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রগতিশীল রাজনীতির এক পরিচিত মুখ।
নিজের পরিচয় দেওয়ার ভিডিওতে তিনি জানান, ২০০৯ সালে কলেজ শেষে তিনি সান ফ্রান্সিসকোতে চলে আসেন, কারণ তিনি এই শহরের ভাবনা ও চেতনার প্রেমে পড়েছিলেন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি যুক্ত আছেন প্রগতিশীল রাজনীতিতে।
সৈকত ছিলেন বার্নি স্যান্ডার্সের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত অন্যতম সদস্য। ২০১৭ সালে তিনি ‘জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস’ নামে একটি সংগঠন শুরু করেন— যার লক্ষ্য ছিল সারা দেশে প্রগতিশীল প্রার্থীদের কংগ্রেসে নির্বাচনে নামানো।
এরই সূত্রে তিনি ২০১৮ সালে আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের (AOC) ঐতিহাসিক নির্বাচনী প্রচারের মূল স্থপতি হন। পরে ২০১৯ সালে তিনি ওকাসিও-কর্তেজের চিফ অফ স্টাফ হিসেবেও কাজ করেন।
এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ন্যান্সি পেলোসির বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন সৈকত। ১৯৮৭ সাল থেকে কংগ্রেসে আছেন পেলোসি এবং এবার তাঁর ২১তম মেয়াদে লড়ছেন।
নিজের ওয়েবসাইটে সৈকত লিখেছেন, “ন্যান্সি পেলোসি এক সময় এক লড়াকু নেতা ছিলেন, যিনি ১৯৮৭ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সময়ের সঙ্গে রাজনীতির পরিবর্তন বোঝেন না। ২০২৫ সালে আমরা যে অ্যান্টি-ডেমোক্র্যাটিক, অ্যান্টি-কনস্টিটিউশনাল, এবং অ্যান্টি-আমেরিকান শক্তির মুখোমুখি, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাছাড়া, ৮৫ বছর বয়সে তাঁর আর সেই শক্তিও নেই এই লড়াইয়ের জন্য।”
সৈকতের এই প্রচার এখন মার্কিন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু— একদিকে তাঁর তরুণ প্রগতিশীল মুখ, অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের অন্যতম। ফলে এই লড়াই কেবল নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং পুরনো ও নতুন ভাবনার সংঘর্ষও বটে।