মার্কিন চর সংস্থা সিআইএ-র এক প্রাক্তন গুপ্তচর জন কিরিয়াকোউ এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সর্ববৃহৎ জঙ্গিহানা।
শেষ আপডেট: 25 October 2025 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদা বিশ্বসন্ত্রাসী আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন বোরখা পরে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। মার্কিন চর সংস্থা সিআইএ-র এক প্রাক্তন গুপ্তচর জন কিরিয়াকোউ এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন। আফগানিস্তানের তোরা বোরা পাহাড়ে ঘাঁটি ছিল ওসামার। মার্কিন চর বাহিনীর বিশ্বস্ত খবরে ওসামা ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের ঘিরে ফেলেছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু, সেখান থেকেই রাতের অন্ধকারে বোরখা পরে মেয়েদের সঙ্গে ট্রাকে চেপে প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন লাদেন, জানিয়েছেন জন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সর্ববৃহৎ জঙ্গিহানার নায়ক ছিলেন আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন। তারপর থেকেই আল কায়েদা ও লাদেনকে খতমের শপথ নেয় মার্কিন সরকার। বহু তল্লাশির পর জানা যায়, আফগানিস্তানের পার্বত্য কন্দর তোরা বোরায় ঘাপটি মেরে রয়েছেন ওসামা। একসময় পাকিস্তানে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের প্রধান নায়ক জন এও স্বীকার করে নেন যে, আল কায়েদারই একজন চর মার্কিন সেনাদলে ঢুকে ছিল। তার হদিশ বোঝা যায়নি সে সময়।
সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডারের দোভাষীর কাজ করা ওই ব্যক্তি আল কায়েদার চর ছিল। জন বলেন, প্রথমে আমেরিকা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছিল। আফগানিস্তানে বোমা বর্ষণের আগে আমরা প্রায় মাসখানেক চুপ করে বসেছিলাম। সেই সময়টায় আরও নিখুঁত তথ্য ও নিশানার খোঁজে ছিলাম। একেবারে নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছিলাম। সিদ্ধান্ত নিতে যাতে কোনও ভুল না হয়, তার জন্য আবেগকে স্থান দেওয়া হয়নি এই অপারেশনে। মাসখানেকের চেষ্টার পর আমরা নিশ্চিত হই যে, তোরা বোরাতেই লুকিয়ে রয়েছেন লাদেন। ওখানেই ওদের আমরা কোণঠাসা করে ফেলি।
কিন্তু, জন বলেন, আমরা জানতাম না একজন দোভাষী আল কায়েদার হয়ে কাজ করছিল। আমরা ওসামাকে বলি, পাহাড় থেকে নেমে এসে আত্মসমর্পণ করতে। দোভাষীর মাধ্যমে উনি জানান, আগে বাচ্চা ও মহিলাদের নিরাপদে যেতে হবে। তারপর উনি এবং জঙ্গিরা নেমে এসে ধরা দেবেন। আপনারা সকাল হওয়া পর্যন্ত আমাকে সময় দিন। দোভাষীই তখন অপারেশনের জেনারেলকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু, ওই রাতেই মেয়েদের পোশাক পরে ট্রাকে চেপে অন্ধকারে পালিয়ে যান লাদেন। আমরা সকালে গিয়ে দেখি তোরা বোরা কেউ নেই। তখন মার্কিন বাহিনী পাকিস্তানের দিকে হামলা শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, ওই অবস্থায় জরুরি ছিল তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফকে কিনে নেওয়া। মার্কিন চর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন অফিসার জন কিরিয়াকোউয়ের দাবি, পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশারফের জমানায় আমেরিকা ওদেশে লক্ষ কোটি ডলার ঢেলেছিল। যার বিনিময়ে আমেরিকা ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের সমর্থন খরিদ করে নিয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, অর্থের বিনিময়ে মোশারফ দেশের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারের চাবি আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
জন বলেন, ২০০২ সালে আমি যখন পাকিস্তান ছিলাম, আমাকে বেসরকারিভাবে জানানো হয়েছিল যে, আমেরিকার সামরিক সদর দফতর পেন্টাগন পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের উপর কবজা করে নিয়েছে। কারণ মোশারফকে আমেরিকা বুঝিয়েছিল যে, তাঁর দেশের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারের দখল নিতে পারে জঙ্গিরা। তাতেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন মোশারফ, জানান জন।
জন আরও জানান, মোশারফের আমলে পাকিস্তানে স্বাধীনভাবে কাজ করত আমেরিকা। আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল ছিল। সত্যি কথা বলতে কী, আমেরিকা চিরকালই একনায়কতান্ত্রিক শাসকের সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। কারণ সেখানে জনমত নিয়ে মাথাব্যথার কিছু থাকে না। এমনকী প্রচারমাধ্যমও মুঠোয় থাকে। তাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, অর্থ ছড়িয়ে মোশারফকে কিনে নাও।
মোশারফকে আমরা লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ডলার দিয়েছি। যখন ইচ্ছে তাঁর সঙ্গে দেখা করা যেত। সপ্তাহে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। আর উনিও আমাদের যা খুশি করার ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছিলেন। মোশারফ চাইতেন সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে। আর তাঁর সেনারা আল কায়েদা নিয়ে চিন্তায় ছিল না, তারা চাইত ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। সে কারণে মোশারফ দুমুখো নীতি নিয়ে চলতে শুরু করলেন। তিনি আমেরিকার সামনে জঙ্গি বিরোধী মুখ হয়ে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলায় উসকানি দিতে থাকলেন।