উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলিতে এখনও ২.৪ কোটি কাফালা রয়েছেন।

জর্ডন, লেবানন, বাহারিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে দশকের পর দশক ধরে এই দাসব্যবস্থা চালু রয়েছে।
শেষ আপডেট: 22 October 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫০ বছরের পুরনো ‘কাফালা’ ব্যবস্থার অবলুপ্তি ঘটাল সৌদি আরব। এর ফলে আনুমানিক ১.৩ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক ‘দাসত্ব’ থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন। যার মধ্যে বাংলা সহ ভারতের বহু শ্রমিক ও দক্ষিণ ভারতের অসংখ্য নার্স রয়েছেন। ঘটনাটি অনেকেরই হয়তো স্মরণে নেই। ২০১৭ সালে কর্নাটকের এক নার্স এসে পা রাখেন সৌদিতে। মাসের ২৫ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল শেখদের দেশে। কিন্তু, এখানে আসার পরেই তাঁর দিবাস্বপ্ন ভেঙে যায়।
নার্স বুঝতে পারেন, তাঁর কাফিল বা স্পনসর অথবা নিয়োগকারী আসলে তাঁকে পাচার করে নিয়ে এসেছেন। ভুখা পেটে হাড় ভাঙা খাটুনি, প্রতিবাদ করলে মারধর, অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা সব মিলিয়ে দাসত্বের জীবন শুরু হয় তাঁর। মাসের পর মাস ধরে তিনি মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান। এবার কাফালা ব্যবস্থার আইনি অবলুপ্তি ঘটায় তাঁরই মতো অসংখ্য ভারতীয় নার্স শোষণ ও অত্যাচারের হাত থেকে স্বাধীনতা পাবেন।
শুধু তিনি নন। উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলিতে এখনও ২.৪ কোটি কাফালা রয়েছেন। গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের অন্তর্গত দেশগুলি যেমন- জর্ডন, লেবানন, বাহারিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে দশকের পর দশক ধরে এই দাসব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাহরিন ও কাতার অবশ্য সরকারিভাবে দাবি করে যে, তারা এই ব্যবস্থার অবলুপ্তি ঘটিয়েছে। কিন্তু তা আদতে সত্য নয়!
কাফালা ব্যবস্থায় সরকার স্থানীয় ব্যক্তি বা কোম্পানিকে বিদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে আসার পারমিট দেয়। বাহারিনের ক্ষেত্রে এই কাজটি হয় সরকারি স্তরে, বেসরকারি হস্তক্ষেপ গ্রাহ্য নয়। স্পনসর বাইরে থেকে ভাড়ায় বা বেতনের কাজ দিয়ে নিজের খরচায় তাঁদের নিয়ে আসে। স্পনসর বা মালিকের হেফাজতেই থাকেন শ্রমিকরা। ডর্মেটরি গোছের খোঁয়াড়ে তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই জোটে। আর বাড়ির পরিচারক বা পরিচারিকার কাজ হলে সেই আধা-মালিকের বাড়িতে।
সবথেকে যে সমস্যা সেটা হল- সেই দেশে যাওয়া মাত্রই পাসপোর্ট-ভিসা জমা রাখতে হয় স্পনসরের কাছে। ফলে পালিয়ে আসা সেই দেশেও স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরার অধিকার জন্মায় না। গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের অধীন দেশগুলিতে আনুমানিক ৭৫ লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন। এই অবস্থায় সৌদিতে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরা এখন থেকে স্বাধীনভাবে কাজ পরিবর্তন করতে পারবেন। মালিকের অনুমতি ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। এমনকী কোনও সমস্যায় শ্রম আইনের দ্বারস্থ হতে পারবেন।