দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনের নজির হিসাবে সাহসিকতার এই পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনীর জওয়ান-অফিসারদের।

পহলগামে জঙ্গি হানার পর অপারেশন সিঁদুরে অসামান্য নজির স্থাপনের জন্য দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সেনা পদক বীরচক্র পাচ্ছেন ৬ জন।
শেষ আপডেট: 22 October 2025 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরে অসামান্য বীরত্ব ও শৌর্য দেখানোর স্বীকৃতিস্বরূপ ৬ জনকে বীরচক্র পদকে ভূষিত করা হবে। গতকাল, মঙ্গলবার রাতে ভারত সরকারের তরফে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে সকলের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনের নজির হিসাবে সাহসিকতার এই পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনীর জওয়ান-অফিসারদের। এর মধ্যে রয়েছে, ১২৭টি সাহসিকতার পুরস্কার ও ৪০টি বিশিষ্ট সেবা পদক। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই তালিকায় অনুমোদন দিয়ে ৪ জনকে কীর্তিচক্র, ১৫ জনকে বীরচক্র, ১৬ জনকে শৌর্যচক্রের স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এর ভিতরে পহলগামে জঙ্গি হানার পর অপারেশন সিঁদুরে অসামান্য নজির স্থাপনের জন্য দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সেনা পদক বীরচক্র পাচ্ছেন ৬ জন। তাঁরা হলেন-
অপারেশন সিঁদুরে কোশাঙ্ক লাম্বা অনবদ্য নেতৃত্ব ও অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় রেখেছিলেন। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর নৈপুণ্যের প্রমাণ দেখিয়ে বিমান বিধ্বংসী যুদ্ধ চালান। যার ফলে শত্রু নিকেশ করা অত্যন্ত সহজ হয়েছিল। তাঁর প্রযুক্তি কৌশল ও জ্ঞান এবং সময়ানুগ দক্ষতার স্বীকৃতিতে তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। শত্রুর আক্রমণ সত্ত্বেও জীবনের পরোয়া না করে কর্নেল একটি কামান থেকে অন্য কামান পর্যন্ত ছুটে বেরিয়ে সেনাদের মনোবল বৃদ্ধি করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাহিনী বেশ কয়েকটি শত্রু শিবির ধ্বংস করে দেয় এবং অনেক জঙ্গিকে নিকেশ করে দিয়েছিল।
অপারেশন সিঁদুরে লে.ক. বিস্ত অসামান্য বীরত্বের নজির রেখেছেন। তাঁর পরিকল্পনা মতো বেনজির সাফল্য মিলেছিল। তাঁর ইউনিটের কর্মদক্ষতায় বেশ কয়েকটি জঙ্গি শিবির ধুলোয় মিশে গিয়েছিল। তিনি উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে জঙ্গি ঘাঁটিকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে অব্যর্থ নিশানা ফেঁদেছিলেন। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তিনি অন্ধকারের আড়ালে ইউনিট মোতায়েন করেন। শত্রুরা যখন বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যেই তিনি সকলকে নিরাপদে এবং সময়মতো বের করে নিয়ে আসেন।
রাফাল স্কোয়াড্রনের কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছিলেন সিধু। তিন বিমানের ফর্মেশন বা আকৃতিতে শত্রুঘাঁটিতে অব্যর্থ নিশানা দেগেছিলেন তিনি। এই মিশনে জরুরি ছিল, নির্ভুল পরিকল্পনা, সহজবোধ্য সহযোগিতা, ব্যতিক্রমী বিমান চালানোর দক্ষতা এবং বিমান বিধ্বংসী এলাকায় ঢুকে হামলা চালানোর মতো নৈপুণ্য। তাঁর নেতৃত্বে দূর ও মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে ছোড়ার অস্ত্রের নাগাল এড়িয়ে নিরাপদে কাজ হাসিল করে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল বিমানগুলি।
তিনি ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র স্কোয়াড্রন পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ডিফেন্স নেটওয়ার্ক একেবারে মজবুত ছিল। বিশাল এলাকা জুড়ে তিনি মাত্র দুটি ফায়ারিং ইউনিট নিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষার কাজ করেছিলেন।
তিনি ডেপুটি মিশন লিডার হিসাবে সবথেকে বিপজ্জনক কাজ দেওয়া হয়েছিল তাঁর উপর। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে রাতের অন্ধকারে তিনি শত্রু নিকেশ করতে সক্ষম হন। যে কাজে ছিল প্রতিপদে বিপদের ঝুঁকি। ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রথম শত্রু নিশানায় ফায়ার করেন। হামলার সময় তাঁর উপর শয়ে শয়ে প্রতি আক্রমণ চলে। কিন্তু, শত্রুঘাঁটি নিকেশ করে নিজের দক্ষতায় বেরিয়ে আসেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় বার টার্ন করে আরেকটি শত্রু শিবিরের দিকে ধাওয়া করেন। একইভাবে হাইরিস্ক জোনে ঢুকে সেটাও ধ্বংস করে দেন।
ইনিও তিন বিমানের ফর্মেশন বা আকৃতি গড়ে নজিরবিহীন সাহসিকতার পরিচয় রেখেছিলেন।