আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে চিন ও রাশিয়া সুন্দরী চর নিয়োগ করে তথ্যপ্রযুক্তির হাঁড়ির খবর হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এই খবরের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্পেস এক্সের মালিক তথা টেক-ধনকুবের মাস্ক।

মাস্ক কেন এ ধরনের কথা লিখেছেন, তা শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের একবার সোশ্যাল মিডিয়াকে মাত্র একটি বাক্যে নাড়িয়ে দিলেন কোটি কোটিপতি ইলন মাস্ক। আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে চিন ও রাশিয়া সুন্দরী চর নিয়োগ করে তথ্যপ্রযুক্তির হাঁড়ির খবর হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এই খবরের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্পেস এক্সের মালিক তথা টেক-ধনকুবের মাস্ক। এই ‘সেক্স ওয়ারফেয়ার’ (Sex Warfare) বা যৌনযুদ্ধ নিয়ে মাস্কের একটি লাইনে প্রতিক্রিয়া হল, ‘If she’s a 10, you’re an asset.’। আর এই মন্তব্য এক্সে পোস্ট করা মাত্র তা দুনিয়া জুড়ে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। মাস্ক কেন এ ধরনের কথা লিখেছেন, তা শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা।
ট্রাম্পের ব্যঙ্গের ছলে মন্তব্যটি আপাত দৃষ্টিতে মজার মনে হলেও তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এই মন্তব্য আসলে আমেরিকার গোপনীয়তা রক্ষার বড়াইকে কটাক্ষ করতে চেয়েছেন মাস্ক। কারণ, মাস্কের বিপুল আর্থিক সাহায্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ে হোয়াইট হাউসে বসার পর থেকেই ধনকুবেরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এমনকী চিনে মাস্কের ব্যবসা গুটিয়ে আনা নিয়েও দুজনের মধ্যে ফাটল ধরেছিল। সে কারণে আসলে মাস্ক আমেরিকার তথ্য সুরক্ষার ফোঁকর নিয়ে মশকরা করেছেন।
একটি উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, অনেকটা হলিউডি সিনেমার গল্পের মতো। কিংবা ইয়ান ফ্লেমিংয়ের জেমস বন্ড সিরিজের রজার মুর অভিনীত ১৯৭৭ সালের ছবি ‘স্পাই হু লাভড মি’র গল্পের আধুনিক সংস্করণ। একটি বাণিজ্য কনফারেন্সে পরিচয়। ঝকঝকে, হাসিখুশি, বুদ্ধির দীপ্তি সারা শরীরে তরঙ্গ তুলে ঘুরছে। কথাবার্তায় রসবোধের ঝিলিক খেলছে। এককথায় সম্মোহিনী! পরিচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণ কিংবা প্রৌঢ় পুরুষটির কাজের প্রতি আসক্তি জাগিয়ে তোলায় ঘনিষ্ঠতা ও কোনও কোনও সময় প্রণয় গড়ে ওঠা।
কয়েক বছর পর পুরুষটি জানতে পারলেন মোহিনীবিদ্যায় পারদর্শিনী ওই যুবতী আসলে বিদেশি চর। আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি যুদ্ধকৌশল হস্তগত করতে এসেছিলেন। ইদানীংকালে আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে ঠিক এই পদ্ধতিতেই শুরু হয়েছে আধুনিকতম চরবৃত্তি। চিন ও রাশিয়া কিছুকাল ধরে এ ধরনের সুন্দরী-যৌন আবেদনময়ী মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলিতে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তারা চাকরিতে ঢুকছে না, অন্য কোনওভাবে কর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।
If she’s a 10, you’re an asset 💯😂 pic.twitter.com/Fc9twx1BPp
— Elon Musk (@elonmusk) October 23, 2025
যেমন কোনও এনগেজমেন্ট, বিয়ে, পদোন্নতির পার্টি অথবা নিছক কফি শপে। তাদের কাজই হচ্ছে মার্কিন তথ্যকর্মীদের উসকানো বা প্ররোচিত করা। মক্ষীরানির মতো তাঁকে ঘিরে মৌমাছির মতো ঘুরপাক খাবেন সেই কর্মী। তারপর সুকৌশলে তিনি ট্রেড সিক্রেট হাতিয়ে নেওয়া। এই কাজে তাঁরা কখনও বিয়েও করেন শিকারের সঙ্গে। এমনকী সন্তানধারণও করেন শয্যাসঙ্গী হিসেবে অন্ধ বিশ্বাস গড়ে তুলতে।
গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা এই কাজের নাম দিয়েছেন ‘যৌনযুদ্ধ’। যা বর্তমানে আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের দাপটের মুখে এক বিশাল বিপদ হিসেবে মাথা তুলেছে। পামির কনসালটিং-এর মুখ্য গোয়েন্দা অফিসার জেমস মুলভেনন। যিনি চিনে বিনিয়োগকারী মার্কিন কোম্পানিগুলির উপদেষ্টা। তাঁর মুখেই জানা গেল, একেবারে ঘোড়ার মুখের খবর। দ্য টাইমসে তিনি বলেছেন, সম্প্রতি আমি লিঙ্কডিনে এরকম ভীষণ পরিচ্ছন্ন-অভিজাত চিনা মেয়েদের কাজের অনুরোধ পাচ্ছি। প্রায় অধিকাংশই হচ্ছে একই ধরনের আকর্ষণীয় চিনা যুবতী মেয়েদের। অতি সম্প্রতি এই সংখ্যাটা প্রচণ্ড বেড়ে গিয়েছে।
ভার্জিনিয়াতে চিনা বিনিয়োগের ঝুঁকি সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য সম্মেলনে মুলভেনন বলেন, দুজন অতি সুন্দরী চিনা মহিলা এখানে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা তাঁদের প্রবেশ করতে দিইনি। অথচ, তাদের কাছে এই অনুষ্ঠানের সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য রয়েছে এবং তারা সবকিছু জেনে গিয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে চর-প্রতিরোধী ব্যবস্থার কাজে যুক্ত রয়েছেন এই প্রবীণ গোয়েন্দা। তাঁর কথায়, এই কৌশল সত্যিই বিপদের কারণ হয়ে গিয়েছে। কারণ তারা মার্কিন আইন ও সংস্কৃতির ফায়দা তুলছে। এবং যৌন যুদ্ধবিদ্যাকে সংগঠিত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
রাশিয়া ও চিন এই কাজে সাধারণ নাগরিক, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্টকে বেসরকারি এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করছে। এর ফলে মূল ব্যক্তি কে, তা চিহ্নিত করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এক প্রাক্তন গোয়েন্দা জানান, একবার এক অতি সুন্দরী রুশ মহিলা আমেরিকার এক এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করেন। ওই ইঞ্জিনিয়ার একটি অতি গোপনীয় প্রকল্পে কাজ করতেন। প্রথমে পরিচয়-ঘনিষ্ঠতা, তারপর বিয়ে-বাচ্চা করে আজীবন খুঁটিনাটি সংগ্রহ করার মনস্থ ছিল ওই রুশ চরের।
একটি পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকার বুদ্ধি বা চিন্তাশীল সম্পত্তি চুরির পরিমাণ বছরে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের। যার বেশিরভাগই হয় চিন থেকে। সিলিকন ভ্যালি হল আর্থিক চরবৃত্তির একটি নরম শিকার। এখান থেকে বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। শুধু চিন বা রাশিয়া নয়, বন্ধু দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও ইজরায়েলও একই কৌশলে গোয়েন্দা তথ্য চুরি চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি চিনা চর ইউনিট কাজ করে চলেছে। যারা স্থানীয় নেতা ও রাজনীতিকদের নিয়োগ করছে। ২০০৮ সালের অলিম্পিক্সের মশাল দৌড়ে চিনের চর সংস্থা কয়েক হাজার ছাত্রকে দৌড়ে অংশ নিইয়েছিল। যার লক্ষ্য ছিল তিব্বতি, উঘুর ও ফালুন গং সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখানোর সুযোগ না পায়।