ব্রিটেনের যুবরাজ হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কল প্রখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, শিল্পী, খ্রিস্টধর্মের নেতা এবং আমেরিকার রক্ষণশীল চিন্তাবিদ স্টিভ ব্যানন ও গ্লেন বেক-এর চিন্তাধারার সঙ্গে যোগ দিলেন।

অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে মানববুদ্ধি ও চিন্তাশক্তির।
শেষ আপডেট: 22 October 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনের যুবরাজ হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কল প্রখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, শিল্পী, খ্রিস্টধর্মের নেতা এবং আমেরিকার রক্ষণশীল চিন্তাবিদ স্টিভ ব্যানন ও গ্লেন বেক-এর চিন্তাধারার সঙ্গে যোগ দিলেন। দুনিয়া জুড়ে প্রায় ৮০০ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুপারইন্টেলিজেন্স-এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এই মুহূর্তে একে নিষিদ্ধ না করলে তা ভবিষ্যতে একদিন মানবসৃষ্টি ও মানবসভ্যতার শত্রু হয়ে দেখা দেবে। যাতে অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে মানববুদ্ধি ও চিন্তাশক্তির।
বুধবার এক চিঠিতে যেখানে রাজনীতি ও দেশের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব টেক-জায়ান্ট গুগল, ওপেন এআই এবং মেটা প্ল্যাটফর্মকে তাক দেগেছেন। এই কোম্পানিগুলি এআই ইন্টেলিজেন্স ডিজাইন করতে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা লাগিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বহু ক্ষেত্রে এআইয়ের সুপারইন্টেলিজেন্স মানববুদ্ধির থেকেও এগিয়ে যাবে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
মাত্র ৩০ শব্দের ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, আমরা সুপারইন্টেলিজেন্স নিষিদ্ধ করা হোক। এবং ততক্ষণ এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাক, যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি মতৈক্য গড়ে ওঠে যে, এআই প্রযুক্ত হবে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে। চিঠির প্রস্তাবনায় লেখা হয়েছে, এআই টুলস স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি আনতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে এই টুলসকে আগামী কয়েক দশকে এই কোম্পানিগুলি সুপারইন্টেলিজেন্সে পরিণত করে তুলবে। যা মানবসভ্যতার চরম বিপদ ডেকে আনতে পারবে। ফলে এতে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, মানুষের আর্থিক থেকে শুরু করে মানবশক্তির ক্ষয়, স্বাধীনতা হরণ, নাগরিক অধিকার লোপ, সম্মানহানি এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি এমনকী মানব অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার বিপদের আশঙ্কা করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইংল্যান্ডের ডিউক অফ সাসেক্স এবং তাঁর স্ত্রী ডাচেস অফ সাসেক্স যুবরাজ হ্যারি ও মেগান মার্কলও এই স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন। যুবরাজ হ্যারি একটি ব্যক্তিগত নোটে লিখেছেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত মানবতাকে পুষ্ট করা, তার বিকল্প তৈরি করা নয়। আমি মনে করি, প্রগতির সত্য পরীক্ষা হোক কতটা সুন্দর করে আমরা জীবন গড়তে পারি। কত দ্রুত ছুটে বেড়াতে তা নয়। দ্বিতীয় আর কোনও সুযোগ মিলবে না।
বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টুয়ার্ট রাসেল লিখেছেন, এটাকে সাদা চোখে নিষিদ্ধ বা বন্ধ করার কথা হচ্ছে না। এআইয়ের জনকপ্রতিম গবেষক রাসেলের মতে, এটা একটা প্রস্তাব যে প্রযুক্তি ব্যবহারে একটা নিরাপদতম পদক্ষেপ নেওয়া। যাঁরা গবেষণা করছেন, তাঁদের কাছে সুযোগ রয়েছে যে, এর দ্বারা মানব সভ্যতা বিপন্ন করা যেতে পারে। এআইয়ের আরও দুই জনক যশুয়া বেঙ্গিয়ো ও জিওফ্রে হিনটন (যুগ্মভাবে কম্পিউটার সায়েন্সের শীর্ষ পুরস্কার টার্নিং অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী) তাঁদেরই সৃষ্ট প্রযুক্তি কৌশল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হিনটন গতবছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারও জিতেছিলেন।
এছাড়াও অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওয়াৎজনিয়াক, ব্রিটিশ বিলিওনেয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন, প্রাক্তন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফস মাইক মুলেন, বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ সুজান রাইস, প্রাক্তন আইরিশ প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, বহু ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য, অভিনেতা স্টিফেন ফ্রাই, জোসেফ গর্ডন লেভিটও স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন।