স্ত্রী থাকতেও অন্য মেয়ের প্রতি আসক্তি, কিংবা স্বামী থাকতেও পরপুরুষের উপর অনুরাগ সম্পর্কে ফাটল ধরায়।

২০০৬ সালের ছবি 'কভি আলবিদা না কহেনা'-য় শাহরুখ খান ও রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত চরিত্র দুটি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ছিল।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবিশ্বাস, পারস্পরিক বিশ্বাসভঙ্গতা দাম্পত্য অসুখের মূল কারণ। স্ত্রী থাকতেও অন্য মেয়ের প্রতি আসক্তি, কিংবা স্বামী থাকতেও পরপুরুষের উপর অনুরাগ সম্পর্কে ফাটল ধরায়। বিশেষত যৌবনের উপান্তে বা যৌবন শেষ হয়ে মধ্য বয়সের দরজায় ঘোরাফেরা করা পুরুষ-মহিলাদের। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের মধ্যে বেঙ্গালুরু এই ধরনের প্রেম-প্রতারণার ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাঙ্ক্ষার অপ্রাপ্তি, মানসিক অসন্তুষ্টি এবং ঘনিষ্ঠতার দূরত্ব সংসার কিংবা সম্পর্কের কাচের দেওয়ালে ঢিল মারে।
স্ত্রী-পুরুষ মানসিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ, বিবাহ বিচ্ছেদের আইনজীবীরা এরকমই বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করেছেন। যা শুধু বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রেই নয়, দেশের আর পাঁচটা মেট্রো শহরের জন্যই প্রযোজ্য। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরির অ্যাপ গ্লিডেনও (Gleeden) ‘প্রতারণা সারণি’তে মেট্রো শহরের উপরের দিকে থাকাকেই চিহ্নিত করেছে।
গ্লিডেনের ভারতীয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১৭ শতাংশই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। যার ভিতরে অধিকাংশেরই বয়স ৩০-৪৫ বছরের মধ্যে এবং আর্থিকভাবে উচ্চবিত্ত পেশাজীবী। কোম্পানির দেশীয় ম্যানেজার সিবিল শিড্ডেল একটি সংবাদ সংস্থাকে জানান, এই অ্যাপে যোগ দেওয়ার মূল কারণ হল- আবেগঘটিত অসন্তুষ্টি। যাঁরা যোগ দেন, তাঁরা শারীরিক সম্পর্কের তুলনায় মানসিক বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে বেশি আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৫ শতাংশ মহিলা, যাঁদের অধিকাংশই ফিনান্স, আইন, ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা স্বউদ্যোগী ব্যবসায়ী। অ্যাপ কর্তৃপক্ষের পরকীয়া সংক্রান্ত সমীক্ষায় (২০২৫) ১২টি শহরের ১৮-৬০ বছর বয়সি পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে ১৫১০ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে ২৯ শতাংশ স্বীকার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা মিথ্যে খোশামোদ করেন। ৫৩ শতাংশ মেনে নিয়েছেন, তাঁরা কোনও না কোনওভাবে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে গোপনে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৭ শতাংশের সমস্যা শারীরিক অপ্রাপ্তি, ১২ শতাংশের আবেগজড়িত এবং ৩৪ শতাংশের এই দুই মিলিয়ে সমস্যা রয়েছে।
এক দাম্পত্য সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জানান, যাঁরা আসছেন, তাঁদের অধিকাংশই ৩০-৫০ কোঠায়। আর পরকীয়া সবসময় ডিভোর্সের দিকে গড়ায় না। মনোস্তত্ত্ববিদ নিত্য জে রাও বলেন, তাঁর কাছে আসা অর্ধেকের বেশি কেসই হল সম্পর্কের জটিলতা ঘটিত। এর মধ্যে ২০ শতাংশের মূল সমস্যা অবৈধ সম্পর্ক। কোনও না কোনও সঙ্গী তাঁর প্রত্যাশা অপূরণজনিত পৃথক লোকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বা পড়তে চলেছেন। ফলে তা কর্মক্ষেত্রে বা ডেটিং অ্যাপের দিকে গড়াচ্ছে।
মহিলা সুরক্ষা ও পুরুষ-নারীর সমানাধিকারের কাজ করা প্রিয়া বরদারাজনের মতে, গত পাঁচ বছরে ব্যভিচার সম্পর্কের ঘটনা অন্তত ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। মহিলারা আমাদের কাছে যখন আসেন, তাঁদের অনেকেই বলেন, মনের কোনও সম্পর্ক টিকে নেই এবং ঘনিষ্ঠতাও বজায় নেই। কিন্তু, গভীরভাবে খোঁজ করলে দেখা যাচ্ছে এর পিছনে রয়েছে স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মুনিস্বামী কে এস বলেন, প্রতি মাসে এ ধরনের কেসের সংখ্যা ৬০ থেকে ১০০ হয়ে যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে এখন কেবলমাত্র ফোন কল, টেক্সট মেসেজ, ভিডিও চ্যাটেই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে ২৭-৩৮ বছর বয়সি পুরুষদের। যাঁরা মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়স। পরকীয়া হচ্ছে অত্যন্ত পরিচিত যেমন- সহকর্মী অথবা বন্ধুদের মধ্যে। প্রথমে প্রেম, তারপর শরীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বলছে, কর্মক্ষেত্রেই বেশি পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া সেই সম্পর্ককে মজবুত করে তুলছে। এ ধরনের সম্পর্কের গোড়াতেই ব্যবহারিক পরিবর্তন চোখে পড়ে। যেমন- যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া, ফোন সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন থাকা কিংবা সারাক্ষণ ফোন নিজের জিম্মায় রাখা। একজন গোয়েন্দা জানালেন, ইদানীং ৯০ শতাংশ কেসই পরকীয়া খুঁজতে লেগে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই হলেন পুরুষ গ্রাহক যাঁরা স্ত্রীকে সন্দেহ করেন। ৪০ শতাংশ মহিলা, যাঁরা স্বামীকে সন্দেহের চোখে দেখেন। অন্য সম্পর্কে থাকা মহিলাদের বয়স ৩৫-৫৫র মধ্যে এবং ছেলেদের বয়স ২৬-৪৮র ভিতরে।