এনডিএ জোটের ‘বিদায়ী’ মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারে ফের বিজেপি-জেডিইউ নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের দাবি জানান মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের সমস্তিপুরে বিধানসভা ভোটের প্রচারে শুক্রবার কংগ্রেস-আরজেডিকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগকে পাশে বসিয়ে এনডিএ জোটের ‘বিদায়ী’ মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারে ফের বিজেপি-জেডিইউ নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের দাবি জানান মোদী। তার আগে ভারতীয় রাজনীতির কিংবদন্তী সমাজতন্ত্রী নেতা ভারতরত্ন কর্পূরী ঠাকুরের বন্দনা করেন প্রধানমন্ত্রী। লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডিকে বিঁধে রাজ্যের মানুষকে লালু-জমানার জঙ্গলরাজের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এদিন মঞ্চে মোদীকে বিশাল এক মাখানার মালা পরিয়ে বরণ করেন দলের নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ সমস্ত রেকর্ড ভেঙে বিহারের বিধানসভা ভোটে জিতবে। এই দাবি করে মোদী আরও বলেন, কংগ্রেস-আরজেডির মহাগাঁটবন্ধনের নেতারা চুরির অভিযোগে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। এদিন মোদীর মঞ্চে নীতীশ ও চিরাগ ছাড়াও হাজির ছিলেন উপেন্দ্র কুশওয়া। এদিন মোদী ভোটে নীতীশের নেতৃত্বের কথা বললেও জিতলে জেডিইউ সুপ্রিমোই যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, এমন ইঙ্গিত দেননি। গতকাল, বৃহস্পতিবার বিরোধী জোটের তরফে লালু-পুত্র তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হলেও কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, আমাদের তো মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী তেজস্বী। বিজেপি জোটের মুখ্যমন্ত্রী কে?
কেন্দ্রীয় সরকারের গুণগান ও উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি দিয়েই মোদী সরাসরি কংগ্রেস ও আরজেডিকে তাক করেন। বলেন, আরজেডি এবং কংগ্রেস মুখে কী বলে আর কাজে কী করে তা আমার থেকে আপনারাই ভাল জানেন। কয়েক হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে এই লোকগুলো জামিনে গারদের বাইরে ঘুরছে। ওদের চুরি করা এমন অভ্যেসে পরিণত হয়ে গিয়েছে যে, এখন ওরা কর্পূরী ঠাকুরের সম্মান চুরির চেষ্টা করছে। কিন্তু, এ রাজ্যের মানুষ কোনওদিন এই কাজ সহ্য করবেন না। এবার নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে জয় হাসিল করবে এনডিএ।
সমস্তিপুরের দুধপুরার জনসভায় ৪৫ মিনিটের ভাষণে মোট ১৭ বার জঙ্গলরাজ শব্দটি উচ্চারণ করেন মোদী। তিনি বলেন, আপনারা মোবাইলে টর্চ লাইট অন করে দিন। এ আলো উন্নতির দিশা দেখাচ্ছে। এরপরেও কি আপনারা আর লন্ঠনের (আরজেডির নির্বাচনী প্রতীক) আলো চাইবেন, উপহাসের ছলে জনতার উদ্দেশে বলেন প্রধানমন্ত্রী। গোটা দেশ দেখছে, মানুষ আর লন্ঠনের বাতি চায় না। তিনি আরও বলেন, আরজেডির মতো দল থাকলে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা একত্রে বাস করতে পারে না। আপনারা কি আবার লাঠবন্ধন সরকারকে এনে ফের পুরনো দিনগুলিকে ফিরিয়ে আনতে চান?