ভারত-ভুটানের মধ্যে সংযোগকারী প্রস্তাবিত প্রথম রেলপথের ঘোষণা উত্তরবঙ্গের বাণিজ্য ক্ষেত্রে আশাআকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বান ডেকে এনেছে।

ভুটানের সামসে থেকে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে প্রকল্প খরচ ধরা হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-ভুটানের মধ্যে সংযোগকারী প্রস্তাবিত প্রথম রেলপথের ঘোষণা উত্তরবঙ্গের বাণিজ্য ক্ষেত্রে আশাআকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বান ডেকে এনেছে। বিশেষত জলপাইগুড়ি জেলা ও ডুয়ার্স এলাকার বাণিজ্য ছাড়াও পর্যটন শিল্পেও গতি নিয়ে আসবে এই রেলপথ। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গত মাসে ৪০৩৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বানারহাট থেকে ভুটানের সামসে এবং অসমের কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের গেলেফু-র মধ্যে তৈরি হবে রেলপথ।
দুটি প্রকল্পেরই কাজ এখনও শুরু হয়নি। এর মধ্যেই বানারহাট-সামসে রেল লাইন নিয়ে স্থানীয় বাণিজ্য মহল এবং পর্যটন ক্ষেত্রে প্রবল আত্মবিশ্বাস জেগে উঠেছে। সকলেরই বিশ্বাস এই আন্তর্দেশীয় রেলপথ বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে জোয়ার নিয়ে আসবে এবং প্রগতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে। ভুটানের সামসে থেকে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে প্রকল্প খরচ ধরা হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা।
বাণিজ্য ছাড়াও এই নয়া রেল যোগাযোগের ফলে নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তৈরি হবে। কারণ বানারহাট থেকে অতি স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত বিন্নাগুড়ি সেনা শিবির। এর ফলে খুব সহজেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর যাতায়াতের দরজা খুলে যাবে। চিন নিয়ে কোনওরকম উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ভারতীয় সেনার মুভমেন্ট অনেক সহজ হয়ে যাবে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলমন্ত্রক আগামী তিন বছরের মধ্যে বানারহাট-সামসে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হয়ে গেলে প্রথমে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে। তারপরেই চালু হয়ে যাবে যাত্রীবাহী ট্রেন। সামসে-বানারহাট লাইনে ২০ কিমি যাত্রাপথে থাকবে দুটি স্টেশন। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল সূত্র জানিয়েছে, একটি প্রধান সেতু, ২৪টি ছোট সেতু, একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ ও ৩৭টি আন্ডারব্রিজ তৈরি করা হবে।
জলপাইগুড়ি জেলা চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক অভ্র বসু একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এরকমই একটি রেলপথের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। অবশেষে রেল মন্ত্রক এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করেছে। এটা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ভুটান ও আমাদের মধ্যে স্থল বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। অনেক কম খরচে ভারতে মাল পাঠাতে পারবে ভুটান। সেভাবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি করতে পারবে আগের তুলনায় অনেক সস্তায়।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়ে গেলে ভারত ও ভুটানের মধ্যে পর্যটন শিল্প চাঙ্গা হয়ে উঠবে। জলপাইগুড়ি ও ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রই বদলে যাবে এই রেল সংযোগের ফলে। এতে গোটা উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক উন্নতির ধারা জোরাল হবে। ডুয়ার্স পর্যটন উন্নয়ন ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক দিব্যেন্দু দেবও একই কথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন বলে আসছি যে, সীমান্তে একটি নতুন অভিবাসন কেন্দ্র খুলতে। বহু মানুষই চামুর্চি হয়ে ভুটানের সামসে পৌঁছলেও তাঁরা থিম্পু পর্যন্ত যেতে পারেন না। এই রেললাইন গড়ে ওঠার পর এখানে একটি অভিবাসন কেন্দ্র তৈরি হলে পর্যটকরা সরাসরি থিম্পু যেতে পারবেন। এতে জেলার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং পর্যটন ব্যবস্থা চাঙ্গা হবে।