পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রীই ঘুমোচ্ছিলেন।

দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাসে তখন ঘুমোচ্ছিলেন হরিকা। চিৎকার-চেঁচামেচিতে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলেই দেখেন দাউদাউ করে জ্বলছে গোটা বাস। বাসের পিছনের গেটটি তখন ভেঙে গিয়েছে। তিনি ছুটে সেই দরজা গলে কোনওমতে ঝাঁপ দেন। আগুন-কেটেকুটে আহত হলেও তিনি কোনওরকমে বেঁচে গিয়েছেন।
হরিকা বলেন, ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত তিনটে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে। হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরুর দিকে যাচ্ছিলেন। অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় উল্লিডাকোন্ডার কাছে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর একটি দুচাকার গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ভলভো বাসটির। তারপরেই দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় তাতে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রীই ঘুমোচ্ছিলেন। সে কারণে ঘটনার আকস্মিকতায় তাঁরা বাস থেকে বেরতে পারেননি। হরিকারও যখন ঘুম ভাঙে, তখন বাসটি জ্বলছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। হরিকা বলেন, পিছনের দরজাটি ভেঙে গিয়েছিল, তাই আমি বেরতে পেরেছি। ওখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে পড়ি রাস্তায়। আর তাতেই আমার চোট লেগেছে।
আরেক যাত্রী সূর্য বলেন, আগুন লাগে পৌনে ৩টে নাগাদ। একটা বাইক আসছিল বোধহয়। তবে পরিষ্কার কিছু বুঝতে পারিনি। তাঁর কথায়, বাইকটি বাসের নীচে ঢুকে যায় এবং স্ফূলিঙ্গ বেরতে থাকে। তারপরেই আগুন ধরে যায়। ভলভো বাসটি কাবেরী ট্রাভেলসের স্লিপার ক্লাসের। ফলে প্রতিটি সিটের সঙ্গেই ছিল পর্দা লাগানো। সে কারণে ভিতরে আগুন খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায় বলে জানিয়েছেন আহতরা।
এই বাস দুর্ঘটনা ২০১৩ সালের মহবুবনগরের বাসে আগুনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই একই হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু রুটে বাসে আগুন লেগে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, বাসটিতে ব্যাটারি ছিল চালকের আসনের ঠিক নীচে। এছাড়াও ৩০০ লিটারের জ্বালানি ট্যাঙ্কটি ছিল ব্যাটারি বক্সের ঠিক গায়ে লাগানো। এর সঙ্গেই ছিল তিনটি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত তেলের ট্যাঙ্ক। বাসটির চেসিস ছিল শক্ত প্লাইউডের, ধাতুর তৈরি নয়। যার ফলে তলা থেকে সহজেই আগুন ধরতে সাহায্য করেছিল। বাসের সিটে ছিল ফোমের প্যাডিং ও কুশন আঁটা, যা সব কিছুই সহজদাহ্য।