ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনাপ্রধান রকেট হামলায় নিহত, বৈঠক চলাকালীন আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুতে আরও চাপে তেহরান, তৈরি হচ্ছে সাময়িক বিশেষ পরিষদ।

মৃত্যু হল ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের
শেষ আপডেট: 1 March 2026 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বৈঠক। তার মাঝেই আছড়ে পড়ল বিমান। আরব দুনিয়ায় রণক্ষেত্র। ওই রকেট হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ সেনা আধিকারিক এবং মন্ত্রককর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অস্থিরতা আরও বেড়েছে তেহরানে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই হামলাতে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল আজিজ নাসিরজাদে (General Aziz Nasirzadeh) এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দুল রহিম মৌসাভি (General Abdul Rahim Mousavi)। ইজরায়েল দাবি করছে, ইরান থেকে ছোড়া রকেটের জবাবেই এই পাল্টা হামলা হয়।
শুধু এই দু’জন নন—মারা গিয়েছেন আধাসামরিক বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ড (Revolutionary Guard)-এর প্রধান মহম্মদ পকপোর (Mohammad Pakpour) এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিও (Ali Shamkhani)। রবিবার সকালে এই দুই মৃত্যুর খবর সরকারিভাবে জানিয়েছে ইরান। শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় কাজ অটুট রাখতে সাময়িক বিশেষ পরিষদ (Special Council) গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি (Ali Larijani)। তাঁর কথায়, আয়াতোল্লার উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদই সব কার্যক্রম চালাবে।
মারা গিয়েছেন প্রভাবশালী সেনা আধিকারিক আমার হাতামি (Amir Hatami)–ও। একসময় পদাতিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে (Defence Minister) ইরানের সামরিক নীতিনির্ধারণ, অস্ত্র সংগ্রহ এবং পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, এই হামলার জবাব তারা দেবে। কোনও ‘প্রতীকী’ প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ‘দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ’করা হবে।
পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। ভারতের ইরান দূতাবাস (Iran Embassy India) আমেরিকা ও ইজরায়েলের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যুতেও শোকপ্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে এই হামলার বিরুদ্ধে পৃথিবীর সমস্ত স্বাধীন ও স্বাধীনতাকামী দেশগুলিকে সরব হতে হবে। নীরবতা মানেই অন্যায়কে প্রশ্রয়।
ইরান সরকার ইতিমধ্যেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। সরকারের মুখপাত্র বাসেম আল-আওয়াদি (Basem Al-Awadi) বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনাভরা মনে ইরান ও গোটা মুসলিম বিশ্বকে সমবেদনা জানাই। আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন আয়াতোল্লা খামেনেই।’
শনিবার সকালের হামলা নিয়েই এই উত্তাপের সূত্রপাত। আমেরিকা (USA) এবং ইজরায়েল একযোগে ইরানের একাধিক স্থানে টার্গেটেড স্ট্রাইক চালায়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় খামেনেইয়ের বাড়ি ও দফতর (Khamenei Office)। তার পরই পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার ঘাঁটি (US Bases) লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরব দুনিয়া ফের অনিশ্চয়তার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে—বিশেষ পরিষদ সামলাতে পারবে কি এই অস্থিরতার চাপ, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।