রাশিয়া-ইউক্রেনের লাগাতার যুদ্ধের পর্দা পড়ার আগে একেবারে ক্লাইম্যাক্সে চলে এসেছে নাটক। কিন্তু, মঞ্চের আড়ালে রয়েছে আরও একটি বিস্ময়। যা প্রায় কারওরই জানা ছিল না।

আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিন।
শেষ আপডেট: 18 August 2025 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কল্পনা করা যায়! বলিউড বা মলিউডের চিত্রনাট্যকারদের মাথাতেও যা আসতে পারবে না, তেমনই ঘটনা ঘটছে একটি আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ মাপের কূটনৈতিক আলোচনাসভায়। বিশ্বের দুই সমক্ষমতা সম্পন্ন শক্তিমান নেতার বৈঠকের আয়োজন প্রায় সারা। সেখানে নিয়ত চলছে ক্যামেরা ও নজর রয়েছে এই গ্রহের প্রতিটি রাষ্ট্রপ্রধানের। রাশিয়া-ইউক্রেনের লাগাতার যুদ্ধের পর্দা পড়ার আগে একেবারে ক্লাইম্যাক্সে চলে এসেছে নাটক। কিন্তু, মঞ্চের আড়ালে রয়েছে আরও একটি বিস্ময়। যা প্রায় কারওরই জানা ছিল না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ইউএস এই খবর ফাঁস করে দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর হল, এ ধরনের উচ্চগ্রামের এক মহোৎসবের বিপরীত ছবিটি হল, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক দেহরক্ষীর হাতে থাকা একটি স্যুটকেস (Poop Suitcase)। এটা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু, কী সেটা! কী রহস্য রয়েছে স্যুটকেসের ভিতরে! না, কোনও কূটনৈতিক গোপন দলিল-দস্তাবেজ নয়। নয় কোনও মারণাস্ত্র। সেই বাক্সটি হল, পুতিনের মলমূত্র সংগ্রহ করা এবং সেগুলি ফের মস্কো পর্যন্ত ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাগেজ।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকালীন রুটিনেই থাকে এই আশ্চর্য বাক্স। আলাস্কা শান্তিচুক্তি বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পুতিনের বডিগার্ড এরকমই একটি স্যুটকেস বয়ে নিয়ে এসেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা প্রটোকলের মধ্যেই পড়ে। এই ভাবনার মূলে রয়েছে, রুশ রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তাঁর মলের নমুনা পরীক্ষা করে যাতে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের অসুখবিসুখ সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে না আসতে পারে।
পুতিনের বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ এবং তা রাশিয়ায় ফেরত নিয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয়। বহু পুরনো একটি নিরাপত্তা বিধির মধ্যেই রয়েছে। ফরাসি প্রকাশনা সংস্থা প্যারিস ম্যাচের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা প্রথম খবরটি ফাঁস করেন। তাঁদের লেখা থেকে জানা যায়, রাশিয়ার ফেডারেল প্রটেকশন সার্ভিস (FSO) প্রেসিডেন্টের মলমূত্র সংগ্রহের কাজ করে থাকে। সেগুলি বিশেষভাবে তৈরি করা প্যাকেটে ভরে নির্দিষ্ট ব্রিফকেসে সংগৃহীত থাকে, রাশিয়ায় না ফেরা পর্যন্ত। এরকমই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল ২০১৭ সালে পুতিনের ফ্রান্স সফরে এবং ২০১৯ সালে সৌদি আরব সফরের সময়েও।
প্রাক্তন এক ডিআইএ গোয়েন্দা অফিসার ফক্স নিউজকে জানান, পুতিনের মনে আশঙ্কা রয়েছে যে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাঁর মলমূত্র পরীক্ষা করে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে যেতে পারে। তবে ৭২ বছর বয়সি প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গোটা পৃথিবীতে জল্পনার অন্ত নেই। যেমন গত নভেম্বরেই কাজাখস্তানে একটি সম্মেলনে বসে বসে তাঁর পা কাঁপা দেখে সন্দেহ তীব্র হতে শুরু করে। অনেকের মতে, পারকিনসন্স অসুখের মতো রুশ প্রেসিডেন্ট স্নায়ুঘটিত অসুখে ভুগছেন।
এছাড়াও ২০২৩ সালে পুতিন বেলারুশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় কাঁপছিলেন। পরে একটি চ্যানেলের দাবি ছিল যে, পড়ে গিয়ে পুতিন প্যান্টের মলত্যাগ করে ফেলেছিলেন। যদিও ক্রেমলিন এ ধরনের গুজবের কথা অস্বীকার করেছিল।