পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ইসলামাবাদ যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তাতেই প্রথম এই দাবি ওঠে।

শাহবাজ শরিফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 September 2025 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক কথায়, আমেরিকার (USA) সুরেই সুর মেলাল পাকিস্তান (Pakistan)। ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি (India Pakistan Ceasefire) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যে দাবি করে আসছেন, তাকেই কার্যত মান্যতা দিল তারা।
ভারতের সিঁদুর অভিযান (Operation Sindoor) চলাকালীন অস্ত্রবিরতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন - এমন দাবি করেছে পাকিস্তানও। তবে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ও পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির (Asim Munir) সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ইসলামাবাদ (Islamabad) যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তাতেই প্রথম এই দাবি ওঠে। বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান-ভারত অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে ‘সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব’ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, গাজা সঙ্কট মেটাতে তাঁর মুসলিম বিশ্বকে আলোচনায় আনার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছে পাকিস্তান।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সন্ত্রাসবিরোধী ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার ওপর জোর দিয়েছেন শাহবাজ। একই সঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতে। ট্রাম্পকে পাকিস্তান সফরের নিমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।
কিন্তু ভারতের বক্তব্য ভিন্ন। নয়াদিল্লি বরাবরই বলে এসেছে, অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব এসেছিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে সরাসরি ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি সংসদে জানান, ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলা থেকে শুরু করে ১৭ জুন অস্ত্রবিরতির দিন পর্যন্ত মোদী-ট্রাম্পের মধ্যে কোনও ফোনালাপ হয়নি।
ভারতের দাবি, পাকিস্তানি ডিরেক্টর-জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তার আগে ভারত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ও পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক সন্ত্রাসঘাঁটি, সামরিক রাডার, হ্যাঙ্গার, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট প্ল্যাটফর্ম, এমনকী একটি এডব্লিউএসিএস বিমান ধ্বংস করে।
ইসলামাবাদের বিবৃতি অবশ্য দেশের এক মন্ত্রীর কথাও খারিজ করে দিচ্ছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার (Pakistan Minister Ishaq Dar) স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভারত কখনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় (Third-Party Mediation) রাজি হয়নি। ফলে ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) করিয়েছেন - তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এক সাক্ষাৎকারে ইশাক দার বলেন, “ভারত বারবার জানিয়েছে, এটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। আমরা তৃতীয় পক্ষ মেনে নিলেও ভারত তা মানেনি। ভারত চাইলে আলোচনা সম্ভব, কিন্তু জোর করে নয়।” তিনি আরও জানান, সন্ত্রাস, বাণিজ্য, অর্থনীতি, জম্মু-কাশ্মীর সহ সব বিষয়েই ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তান রাজি, কিন্তু দিল্লি তার কোনও জবাব দেয়নি।