পাকিস্তানের (Pakistan ) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ফের ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন।

শেহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 11 November 2025 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদের আদালতের (Islamabad Blast) বাইরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের (Pakistan ) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ফের ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন। তাঁর দাবি, “ভারতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীই পাকিস্তানকে অশান্ত করার জন্য এই হামলা চালিয়েছে।”
সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান’ (APP)-কে শরিফ বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের স্থিতিশীলতাকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদের বিস্ফোরণ ও ওয়ানার ক্যাডেট কলেজে হামলা— দুটিই সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।”
সোমবার আফগান সীমান্তের কাছে ওয়ানার এক ক্যাডেট কলেজে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল। সেই ঘটনারও দায় ভারতের ঘাড়ে চাপিয়েছেন শরিফ। তাঁর অভিযোগ, “আফগান মাটিতে ভারত-সমর্থিত নেটওয়ার্ক শিশুদের উপর হামলা চালাচ্ছে। এমন জঘন্য ঘটনার নিন্দা করেও শেষ করা যাবে না।”
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এদিন বলেছেন, দেশ এখন কার্যত যুদ্ধাবস্থায়। ইসলামাবাদের জেলা আদালতের কাছে বিস্ফোরণকে তিনি “জাতির জন্য জাগরণের ঘণ্টা” বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, আফগানিস্তানের তালিবান শাসনের কাছ থেকে শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া আশা করাও এখন “অবাস্তব”।
খাজা আসিফ ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “আমরা এক যুদ্ধে আছি। যারা ভাবে এই যুদ্ধ শুধু সীমান্তে বা বালুচিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ, তারা ভুল করছে। আজকের আত্মঘাতী হামলা প্রমাণ করছে, এই যুদ্ধ গোটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। সেনা প্রতিদিন প্রাণ দিচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে।”
বিশেষজ্ঞ মহলের মত, পাকিস্তান বহুদিন ধরেই জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন সেই জঙ্গিরাই দেশের ভিতরে দানব হয়ে ফিরে আসছে। অথচ ইসলামাবাদ নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে বারবার ভারতের দিকে অভিযোগের তির ছুড়ছে।
স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ইসলামাবাদ হাইকোর্টের (Islamabad High Court) বাইরে পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে, দূর পর্যন্ত শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জনের, আহত হয়েছেন আরও ২০ থেকে ২৫ জন।
বিস্ফোরণের (Islamabad Blast) খবর পেয়েই দ্রুত পৌঁছে যায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। গোটা আদালত চত্বর ঘিরে ফেলা হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গাড়ির ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় আদালত চত্বরে প্রবল যানজট ছিল, তাই সাধারণ মানুষও এতে জড়িয়ে পড়েন।