গত মে মাসের ১০ তারিখ ট্রাম্প নিজেই এক পোস্টে ঘোষণা করেছিলেন, “দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।”

ট্রাম্প ও শরিফ
শেষ আপডেট: 9 November 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজনার মাঝেও শান্তি ফেরানোর কৃতিত্ব দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump)। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ভিক্টরি ডে প্যারেডে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) বললেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকে ঠেকিয়েছে। তাঁর মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। (India Pakistan)”
শরিফের এই মন্তব্য ঘিরে আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারত-পাক সম্পর্ক ও ট্রাম্পের ভূমিকা।
মার্কিন মধ্যস্থতা নাকি সরাসরি আলোচনাই সমাধান?
গত মে মাসের ১০ তারিখ ট্রাম্প নিজেই এক পোস্টে ঘোষণা করেছিলেন, “দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।” ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পর থেকেই পাকিস্তান সরকারের তরফে ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
তবে নয়াদিল্লি কিন্তু শুরু থেকেই এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে এসেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের সূত্রের দাবি, “মে মাসের যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবেই ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফল। কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না।”
কীভাবে শুরু হয় সংঘাত?
২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ৭ মে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করা। চার দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলতে থাকে। অবশেষে ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় উভয় পক্ষ।
পাকিস্তানের অবস্থান
ইসলামাবাদ এখনও দাবি করছে, এই যুদ্ধবিরতির মূল কারিগর ওয়াশিংটন। শরিফের বক্তব্য, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার সঙ্গে কোনও আপস করব না।” তিনি একইসঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুকে তুলনা করেন আজারবাইজানের নাগোর্নো-কারাবাখ বিজয়ের সঙ্গে।
বাকুর ভিক্টরি ডে প্যারেড-এ পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা-দল আজারবাইজানের বাহিনীর সঙ্গে প্যারেড করে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি যুদ্ধবিমান JF-17 থান্ডার-এর আকাশ প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথিদের মন জয় করে নেয়।
শেহবাজ শরিফের বক্তব্যে স্পষ্ট, পাকিস্তান চায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ফ্রেমে আমেরিকার উপস্থিতি বজায় থাকুক। অন্যদিকে, ভারত তার অবস্থান আগের মতোই পরিষ্কার রেখেছে— কাশ্মীর বা সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনও ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার সুযোগ নেই।