সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি উপগ্রহচিত্রে (Satellite) দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হ্যাঙারের সবুজ রঙের ছাদের বড় অংশ খুলে ফেলা হয়েছে।
.jpeg.webp)
উপগ্রহচিত্রে যা ধরা পড়েছে
শেষ আপডেট: 8 February 2026 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের ভোলারি (Pakistan Bholari) বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় ধ্বংস হওয়া হ্যাঙার মেরামতির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি উপগ্রহচিত্রে (Satellite) দেখা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হ্যাঙারের সবুজ রঙের ছাদের বড় অংশ খুলে ফেলা হয়েছে। যদিও ভিতরের মূল কাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এখনও স্পষ্ট, তবে এই ‘ছাদ ছাড়ানো’ কাজ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, পাকিস্তান (Pakistan) বায়ুসেনা সেখানে পুনর্নির্মাণ বা মেরামতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত বছর ১০ মে, ভারত-পাকিস্তানের (India Pakistan) মধ্যে টানা ৮৮ ঘণ্টার সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে, যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা আগে ভোলারি ঘাঁটিতে এই হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। বায়ুসেনার অনুমান, ওই হ্যাঙারেই পাকিস্তানের একটি এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান— সম্ভবত SAAB 2000 ‘এরাই’—ধ্বংস হয়।
এর আগে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, ভারতীয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মুরিদ, সুক্কুর ও নূর খান বিমানঘাঁটিতেও মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও লাল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, কোথাও ধ্বংসপ্রাপ্ত ইউএভি হ্যাঙ্গারের সংস্কার চলছে।
ভোলারিতে হামলাটি হয় ১০ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে। সেই সময় পাকিস্তানের ড্রোন হামলা ও ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে আঘাতের চেষ্টার পাল্টা জবাবে একাধিক পাক বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ জোরদার করেছিল ভারত। যদিও ভোলারিতে ঠিক কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি আইএএফ। তবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ রাফাল থেকে স্কাল্প, সুখোই থেকে র্যাম্পেজ ও ব্রহ্মোস, মিরাজ থেকে ক্রিস্টাল মেজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা জানা গিয়েছে।
ভোলারিতে হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই, ১০ মে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাইয়ের সঙ্গে হটলাইনে কথা বলেন। সেদিনই বিকেল ৫টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা ঘোষণা হলেও, প্রকৃত অর্থে সীমান্তে শান্তি ফিরতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লেগে যায়।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে জানান, ৯ মে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁকে ফোন করে সতর্ক করেছিলেন, পাকিস্তান বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছে। সেই কথোপকথনের পরেই ভারত কঠোর প্রতিক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।
৯-১০ মে রাতে শুরু হওয়া অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনা অন্তত ১০টি পাক বিমানঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। চকলালা, রাহাওয়ালি, রফিকি, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর, মুরিদ, নায়াচোর, সারগোধা, ভোলারি ও জ্যাকবাবাদ— সব মিলিয়ে একের পর এক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে পাক বিমানকে লক্ষ্য করে সক্রিয় হয় ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।