পাকিস্তানের ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (Islamabad High Court)-এ দীর্ঘদিন বিচারকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। আদালত জানিয়েছে, তিনি যে বেঞ্চে পাঁচ বছর আইনচর্চা করেছেন, সেই ডিগ্রি ‘অ্যাব ইনিশিও’ - অর্থাৎ শুরু থেকেই অবৈধ। ফলে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগও আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অকার্যকর বলে গণ্য হয়েছে।

শেষ আপডেট: 25 February 2026 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর ধরে হাইকোর্টের বিচারপতির পদে দায়ভার সামলে চলেছেন - অথচ তাঁর আইনের ডিগ্রিটিই ভুয়ো (Fake law degree Pakistan judge)! পাকিস্তানে সামনে এসেছে এমনই এক অবিশ্বাস্য কেলেঙ্কারি, যা ইতিমধ্যেই বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে (Pakistan court controversy)।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (Islamabad High Court)-এ দীর্ঘদিন বিচারকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। আদালত জানিয়েছে, তিনি যে বেঞ্চে পাঁচ বছর আইনচর্চা করেছেন, সেই ডিগ্রি ‘অ্যাব ইনিশিও’ - অর্থাৎ শুরু থেকেই অবৈধ (Pakistan judge fake legal qualification scandal)। ফলে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগও আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অকার্যকর বলে গণ্য হয়েছে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক Dawn-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদ হাইকোর্ট একটি বিশদ ১১৬ পাতার রায় প্রকাশ করে। সেই রায়ের ভিত্তিতেই বিচারপতি তারেক মাহমুদ জাহাঙ্গিরি (Justice Tariq Mahmood Jahangiri)-কে পদ থেকে অপসারণ করা হয় (Islamabad High Court judge removed)।
তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরেই তাঁকে বিচারিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
জাল নথি, ছদ্ম পরিচয় - প্রতারণার বিস্তৃত অভিযোগ
হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল করাচি বিশ্ববিদ্যালয় (Karachi University)-এর রেজিস্ট্রারের দেওয়া আসল নথিপত্র। আদালত জানিয়েছে, জাহাঙ্গিরির শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি জাল। শুধু তাই নয়, সেখানে ছদ্মবেশে পরীক্ষা দেওয়া এবং শাস্তি এড়ানোর চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালে তিনি একটি ভুয়ো এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে পরীক্ষায় বসেন। পরীক্ষার সময় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েন। এরপর ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে।
কিন্তু সেই শাস্তি মেনে নেওয়ার বদলে তিনি প্রতারণার পথ বেছে নেন। পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসেন, এবার নিজের পুরো নাম না লিখে শুধু “তারিক জাহাঙ্গিরি” নামে। সেই সঙ্গে ব্যবহার করেন এমন একটি এনরোলমেন্ট নম্বর, যা অন্য এক ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদের নামে বরাদ্দ ছিল।
এতেই শেষ নয়। সরকারি ইসলামিয়া ল কলেজ (Government Islamia Law College)-এর অধ্যক্ষ আদালতকে স্পষ্ট জানান, জাহাঙ্গিরি কোনও দিনই ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হননি।
বারবার সুযোগ, তবু প্রমাণ জমা দেননি অভিযুক্ত
আদালত জানিয়েছে, তাঁকে একাধিকবার আসল নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। লিখিত জবাব চাওয়াও হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনওটাই জমা দিতে পারেননি।
বরং তিনি ফুল বেঞ্চ গঠনের আবেদন, প্রধান বিচারপতির স্বেচ্ছাবসরের দাবি, এমনকি অনির্দিষ্টকালের জন্য শুনানি স্থগিত করার আবেদন করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই সংক্রান্ত মামলা সিন্ধ হাইকোর্ট (Sindh High Court)-এ বিচারাধীন।
তবে হাইকোর্টের বেঞ্চ এই পদক্ষেপকে ‘সময় নষ্ট করার কৌশল’ বলে মন্তব্য করে। আদালত জানায়, আবেদনকারীর পক্ষ থেকে প্রমাণ হাজির করা হয়েছে। ফলে নিজের আইন ডিগ্রির বৈধতা প্রমাণের দায়িত্ব এখন প্রতিপক্ষের, অর্থাৎ জাহাঙ্গিরির উপরই বর্তায়।
তিনি সেই প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিকূল অনুমান টেনেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর অপসারণের পথ আরও সোজা করে তুলেছে।
বিচারব্যবস্থায় বড় প্রশ্ন
এই ঘটনায় পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার নিয়োগ ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কীভাবে একজন ব্যক্তি ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে বছরের পর বছর হাইকোর্টের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করলেন, সেই প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণার উদাহরণ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির বড় ব্যর্থতারও ইঙ্গিত।