শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এতটা ঘৃণ্য আচরণ কোনও বিচারকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। আপনি ট্রেনের কামরায় প্রস্রাব করেছেন।
.jpeg.webp)
সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 12 January 2026 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনের কামরায় সহযাত্রীর সামনে প্রস্রাব (Judicial Officer Found Urinating In Train Coach) করার অভিযোগ। এমন আচরণে ‘ঘৃণ্য’ (Disgusting) শব্দটিও নাকি যথেষ্ট নয়। মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) এক দেওয়ানি বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ ঘিরে সোমবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, কী ভাবে এই ঘটনায় নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করল হাইকোর্ট (High Court)।
শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, “এতটা ঘৃণ্য আচরণ কোনও বিচারকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। আপনি ট্রেনের কামরায় প্রস্রাব করেছেন। সেখানে একজন মহিলা ছিলেন। সাক্ষীদের সবাইকে শত্রু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা।” বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এমন আচরণ বিচার বিভাগের মর্যাদার পরিপন্থী।
ঘটনাটি ২০১৮ সালের। অভিযোগ, ওই বিচারক ইন্দোর থেকে জব্বলপুর যাওয়ার পথে অনুমতি না নিয়েই ট্রেনে সফর করেন। যাত্রাপথে তিনি মদ্যপ অবস্থায় গোলমাল করেন, সহযাত্রী ও রেলকর্মীদের গালিগালাজ করেন, টিকিট পরীক্ষককে কাজ করতে বাধা দেন এবং নিজের বিচারক পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাত্রীদের ভয় দেখান। অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি নাকি নিজের জামা কাপড় খুলে এক মহিলা সহযাত্রীর আসনের উপর প্রস্রাব করেন।
এই ঘটনায় টিটিই-র অভিযোগের ভিত্তিতে রেল আইনে মামলা দায়ের হয়। যদিও পরে মামলায় অভিযোগকারী-সহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা আদালতে বক্তব্য বদলে ফেলায় ওই বিচারক খালাস পান। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে হাইকোর্টের প্রশাসনিক শাখা।
বিভাগীয় তদন্তে সব অভিযোগ প্রমাণিত বলে রিপোর্ট দেয় তদন্তকারী আধিকারিক। প্রশাসনিক কমিটি বিচারককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে। পূর্ণ বেঞ্চও সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে রাজ্যপালের নির্দেশে ওই বিচারকের চাকরি বাতিল হয়।
তবে ২০২৫ সালের মে মাসে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ওই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, ফৌজদারি মামলায় বিচারক খালাস পাওয়ায় চাকরি বাতিল করা যায় না। বরং কিছু লঘু অভিযোগে সামান্য শাস্তিই যথেষ্ট।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যায় হাইকোর্টের প্রশাসনিক শাখা ও প্রধান রেজিস্ট্রার (ভিজিল্যান্স)। তাদের বক্তব্য, ফৌজদারি মামলায় খালাস পাওয়া মানেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি নয়— বিশেষ করে যখন খালাসের কারণ সাক্ষীদের শত্রু হয়ে যাওয়া, নির্দোষ প্রমাণ নয়।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাইকোর্ট তদন্তকারী আধিকারিক, প্রশাসনিক কমিটি এবং পূর্ণ বেঞ্চের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজের মূল্যায়ন চাপিয়ে দিয়েছে, যা ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া।
সোমবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই আপিলের প্রেক্ষিতে রাজ্যের জবাব চেয়েছে। একই সঙ্গে বেঞ্চের মন্তব্যে স্পষ্ট, বিচারকের মতো সংবেদনশীল পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই মামলার রায় বিচার ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাবে বলেই মনে করছে আইনমহল।