সংগঠনের নতুন নারী শাখা ‘জমাত উল-মুমিনাত’-এর নেতৃত্বও সাদিয়া আজহারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার স্বামী ইউসুফ আজহার যিনি মে মাসে ভারতের ‘সিঁদুর অভিযানে’-এর সময় বাহাওয়ালপুরে জঈশের সদর দফতরে বিমান হামলায় নিহত।

মাসুদ আজহার
শেষ আপডেট: 22 October 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-কে জাতিসংঘ (UN) সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলেই ঘোষণা করেছে। আর এরপরই দেখা যাচ্ছে, নতুন রূপে পাকিস্তানে সক্রিয় হচ্ছে তারা। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, সংগঠনটি এখন ‘জমাত উল-মুমিনাত’ (Jamat ul-Muminat) নামে নারীদের জন্য একটি ইউনিট গঠন করেছে এবং তার জন্য চালু করেছে অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সও! তার নাম - ‘তুফাত আল-মুমিনাত’ (Tufat al-Muminat)।
এই অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে জইশ মহিলাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও নতুন সদস্য নিয়োগের কাজ চালাবে। সূত্রের খবর, আগামী ৮ নভেম্বর থেকেই শুরু হবে এই নিয়োগ অভিযান। জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) দুই বোন, সাদিয়া আজহার ও সামাইরা আজহার, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নেতৃত্বে আছে বলে সূত্রের খবর। প্রতিদিন ৪০ মিনিটের ‘লেকচার’-এ তাঁরা ইসলামের ব্যাখ্যা ও তথাকথিত ‘জিহাদি দায়িত্ব’ সম্পর্কে অন্য মহিলাদের শিক্ষা দেবে বলে জানা গেছে।
সংগঠনের নতুন নারী শাখা ‘জমাত উল-মুমিনাত’-এর নেতৃত্বও সাদিয়া আজহারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার স্বামী ইউসুফ আজহার যিনি মে মাসে ভারতের ‘সিঁদুর অভিযানে’-এর (Operation Sindoor) সময় বাহাওয়ালপুরে জঈশের সদর দফতরে বিমান হামলায় নিহত। মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এই ইউসুফ। এছাড়া আফরির ফারুক, যিনি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে হামলাকারী (Pahalgam Attack) উমর ফারুকের স্ত্রী, তাকেও এই নারী সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতি অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৫৬ টাকা)। সে দেশে নারীদের একা বাইরে যাওয়া অনুচিত মনে করা হয়। তাই এই টাকা অনলাইনেই সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গত ৮ অক্টোবর মাসুদ আজহার এই নারী ইউনিট গঠনের ঘোষণা করেছিল। এরপর ১৯ অক্টোবর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) অনুষ্ঠিত হয় ‘দুখতারান-এ-ইসলাম’ নামের এক সভা, যেখানে মহিলাদের সংগঠনে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের অনলাইন প্রচার ও নিয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের প্রসার ঘটাতে এটি পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির এক নতুন কৌশল।