স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর ওই ছাত্র ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে স্কুল ছেড়ে দেয়। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রকাশ্যে আসে মারধরের ভিডিও
শেষ আপডেট: 22 October 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশিরভাগ বাবা-মা সন্তানকে সঠিকভাবে গড়েপিঠে নেওয়ার জন্য হোস্টেল বা আবাসিক স্কুলের ওপরই ভরসা করেন। কিন্তু কর্নাটকের চিত্রদুর্গা জেলার (Karnataka Chitradurga district) এক ঘটনায় প্রশ্ন উঠল সেই ভরসা নিয়েই।
সম্প্রতি কর্নাটকের হোস্টেল-স্কুলে (Karnataka residential school) ১০ বছরের পড়ুয়াকে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, শ্রীগুরু থিপ্পেরুদ্রস্বামী আবাসিক বেদ বিদ্যালয়ে (Shreeguru Thipperudraswamy’s residential Veda school) মারধরের ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে (viral video)।
ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ছাত্রটিকে টেনে হিঁচড়ে মারধর করছেণ, থাপ্পড় থেকে লাথি কিছুই বাদ দেননি। পড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, অন্যের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দিদাকে ফোন করেছে সে। সেই ‘অপরাধের’ শিক্ষা দিতে ছাত্রের উপর নৃশংস নির্যাতন চালান শিক্ষক। বারবার ক্ষমা চেয়েও রেহাই পায়নি ওই পড়ুয়া।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় আট মাস আগে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর ওই ছাত্র মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে স্কুল ছেড়ে চলে যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, কালাবুরগি জেলা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বীরেশ হিরেমঠ (Veeresh Hiremath)-কে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। চিত্রদুর্গার এসপি রণজিত কুমার জানিয়েছেন, “ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সূত্রের খবর, অভিযোগ সামনে আসার পর কিছুদিনের জন্য উধাও হয়ে যান ওই শিক্ষক। পরে তাঁকে খুঁজে গ্রেফতার করা হয়, আদালতে পেশ করাও হবে। তদন্ত শেষ হলে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে।”
এদিকে, ওই একই রাজ্যের আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। বেঙ্গালুরুর মাগাডি রোডের সুনকদকাট্টে এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রকে পিটিয়ে ঘরে বন্দি করার অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রের মায়ের অভিযোগ, প্রিন্সিপাল রাকেশ কুমার ও শিক্ষিকা চন্দ্রিকা পিভিসি পাইপ দিয়ে ছেলেকে মারধর করেন এবং বিকেল পর্যন্ত একটি ঘরে আটকে রাখেন। কারণ, স্কুলে ছাত্রটির অনিয়মিত উপস্থিতি।
এই ঘটনার পর পুলিশ স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হলেও তিনি পরে জামিন পান। তদন্তে তিনি স্বীকার করেছেন, ছাত্রকে মারধর করেছেন।
একদিকে আবাসিক বেদ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক শারীরিক নির্যাতন, অন্যদিকে শহরের স্কুলে শিশুকে মারধর করে আটকে রাখা - এই দুই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। উপযুক্ত শিক্ষার পাঠ নিতে গিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, বাড়ছে বিতর্ক।