মার্কিন কংগ্রেস সাফ জানিয়েছে, পাকিস্তান কোনও কথা বলার আগে যেন জইশ-ই-মহম্মদের মতো ‘অসুরদল’কে নিকেশ করে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি দমন অবস্থানে ভারতের জমি আরও পোক্ত হল।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-বিরোধী দৌত্য করতে আমেরিকায় গিয়ে উল্টে চাপ খেল পাকিস্তান। মার্কিন কংগ্রেস সাফ জানিয়েছে, পাকিস্তান কোনও কথা বলার আগে যেন জইশ-ই-মহম্মদের মতো ‘অসুরদল’কে নিকেশ করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জঙ্গি দমন অবস্থানে ভারতের জমি আরও পোক্ত হল। মার্কিন কংগ্রেস সম্মানীয় সদস্য ব্রাড শেরম্যান পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করেন। সেই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন, পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।
বিলাওয়ালকে আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য স্পষ্ট করে বলেন, আগে জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এছাড়াও পাকিস্তানে বসবাস করা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করুন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শেরম্যান পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে জানান, অবিলম্বে ডঃ শাকিল আফ্রিদিকে মুক্তি দিতে হবে। প্রসঙ্গত, এই ডাক্তারের সহযোগিতায় আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের খোঁজ পেয়েছিল সিআইএ (CIA)।
মার্কিন চর সংস্থার সহযোগী হিসেবে আফ্রিদি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পোলিও টিকা কর্মসূচির একটি ছদ্ম অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই পোলিও টিকাকরণের আড়ালে তিনি লাদেনের পরিবারের ডিএনএ সংগ্রহ করেছিলেন। সেই আফ্রিদিকে ২০১১ সালের মে মাসে আবোট্টাবাদে ওসামা বিন লাদেনের ডেরা মার্কিন হানার কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তান সরকার গ্রেফতার করে। এবং বিচারে এই ডাক্তারের ২০১২ সালে ৩৩ বছরের কারাদণ্ডের সাজা হয়। শেরম্যান এই ব্যক্তিকে অবিলম্বে কারামুক্ত করতে হবে ইসলামাবাদকে।
শেরম্যানকে প্রভাবিত করার আগেই তিনি উলটো চাপ দিয়ে বিলাওয়ালকে জানিয়ে দেন, জইশ-ই-মহম্মদের মতো অসুরবাহিনীকে লালন-পালন না করে এদের চিরকালের মতো মুছে দিতে যা করতে হয়, তা করুন। তাঁর কথায়, আপনাদের যা ইচ্ছে হয় করুন। কিন্তু, এই অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলে দিন। এবারেও তিনি ২০০২ সালে ওয়াল স্ট্রিট পত্রিকার সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্লকে অপহরণ করে খুনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। পার্লকে হত্যা করেছিল জইশ-ই-মহম্মদ।
সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও শেরম্যান পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও তাঁদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয় তা নিয়েও বিলাওয়াল ভুট্টোকে কড়া কথা শোনান। তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন, খ্রিস্টান, হিন্দু এবং আহমেদিয়া মুসলিমদের স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণ করতে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভয়মুক্ত হয়ে অর্থাৎ ভোট দাঁড়াতে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে তাঁদের উপর যেন কোনও খুনখারাবি, হুমকি, শোষণ ও অসাম্য না করা হয়।