বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও তরল গ্যাস আমদানির উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। প্রায় ৮৫ থেকে ৯৯ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই পথেই আসে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

শাহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 18 March 2026 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Conflict) জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানে। এই পরিস্থিতিতেই ২৩ মার্চের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি (Pakistan Republic Day Parade) বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) দফতর থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সঙ্কটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের সরবরাহে বাধা এবং ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপের প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে। ফলে এ বছরের উদ্যাপন সীমিত আকারে, শুধুমাত্র পতাকা উত্তোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
প্রজাতন্ত্র দিবস পাকিস্তানের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত এই দিন, যা পরে দেশভাগের পথ প্রশস্ত করেছিল। আবার ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও তরল গ্যাস আমদানির উপর পাকিস্তানের নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। প্রায় ৮৫ থেকে ৯৯ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই পথেই আসে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
এর জেরে জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়েছে। মাসিক আমদানি খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের ঘাটতিও তীব্র হয়েছে, ফলে বিকল্প জ্বালানি খোঁজা এবং বিদ্যুৎ বণ্টনে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রয়োজন পড়েছে।
সঙ্কট সামাল দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কর্মীদের জন্য ঘরে বসে কাজের ব্যবস্থা, স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে চার দিনের কাজ চালু করা হয়েছে, যাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়।
এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের বেতন কমানো, বিদেশ সফরে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি মজুতও উদ্বেগজনক - মাত্র কয়েক দিনের জন্য পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস রয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যে সরাসরি পাকিস্তানের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট। প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বাতিল সেই সংকটেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।