প্রেস ব্রিফিংয়ের মাঝে মহিলা সাংবাদিককে চোখ মারলেন পাক সেনার ডিজি আইএসপিআর আহমেদ শরিফ চৌধুরী। ইমরান খানকে নিয়ে প্রশ্নের পরই তাঁর এই আচরণ নিয়ে শুরু চর্চা।

প্রেস কনফারেন্সের সময় (ছবি- সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 10 December 2025 09:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের সেনা জনসংযোগ বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল (DG ISPR) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী (Lt Gen Ahmed Sharif Chaudhry) সাংবাদিক বৈঠকের সময় এক মহিলা সাংবাদিককে চোখ মারলেন, সেনিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই ঘটে এই ঘটনা। মুহূর্তে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন চৌধুরী।
ব্রিফিং-এর শুরুতেই সাংবাদিক আবসা কোম্যান প্রশ্ন তুলেছিলেন, ইমরানকে কেন ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ (National Security Threat), ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ (Anti-State) বা ‘দিল্লির ইশারায় পরিচালিত’ (Acting at the hands of Delhi) বলা হচ্ছে। সাংবাদিকের প্রশ্ন, “এর আগে এমন অভিযোগ ওঠেনি? ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও কোনও পদক্ষেপ হবে কি?” তাঁর জবাবে চৌধুরীর বক্তব্য ছিল, “আরও একটা পয়েন্ট যোগ করুন, উনি এক জন মানসিক রোগী (Mental Patient)।” এর পরই তিনি হাসেন এবং সাংবাদিকের দিকে চোখ টিপে (Wink) ইঙ্গিত দেন। ক্যামেরায় ধরা পড়তেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়ায়।
বহু নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্রের মৃত্যু (Democracy Is Over) হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর আধিপত্য ও দৌরাত্ম স্পষ্ট। কেউ লিখেছেন, “এটা নেহাতই স্বাভাবিক ঘটনা। দেশটা এখন ‘মিম মেটেরিয়াল’।”
Shameless. Pakistan Army Spokesperson seen winking at a female journalist during a press conference. In any normal country there would have been a public and media outrage and immediate action by the institution. In Pakistan harassment of women is normal.pic.twitter.com/nFYpcrL3jK
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) December 9, 2025
শুক্রবার এক আলাদা বিবৃতিতে চৌধুরী ইমরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। নাম না করেই তাঁকে ‘নার্সিসিস্ট’ (Narcissist) আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ইমরান মনে করেন, “আমি ক্ষমতায় না থাকলে অন্য কিছু থাকবে না।” একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে আসা কয়েক জনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বিষ ছড়ানো’ (Spread Poison) হচ্ছে।
চৌধুরীর দাবি, ইমরান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে পাকিস্তান সেনা ও জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে দেব না।” তাঁর বক্তব্য, সাংবিধানিক অধিকার (Constitutional Rights) মানে সীমাহীন স্বাধীনতা নয়, বিশেষত যখন জাতীয় নিরাপত্তা (National Security) হুমকির মুখে।
ইমরানকে আবারও ৯ মে, ২০২৩-এ সেনা স্থাপনাগুলির উপর হওয়া হামলার (May 9 Attacks) ‘পরিকল্পনাকারী’ (Orchestrator) বলে অভিযুক্ত করেন ISPR প্রধান। তাঁর বক্তব্য, “ওই হামলার পিছনে কে ছিলেন, সেটা সবাই জানে।” যদিও বারবারই ইমরান ও তাঁর দল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি জেলের ভিতর থেকেই ইমরান এক্স-এ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তি’ (Mentally Unstable Person) বলে আক্রমণ করেন এবং পাকিস্তানে সংবিধান ও আইনশৃঙ্খলার ‘সম্পূর্ণ পতন’ (Complete Collapse of Constitution and Rule of Law) হয়েছে বলেও দাবি করেন।
এই বিতর্কিত চোখ মারার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি আরও একবার ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব (Military Influence) কতটা বেশি।