এই সিদ্ধান্ত এসেছে ইএফএফের দ্বিতীয় পর্যালোচনা এবং আরএসএফের প্রথম পর্যালোচনা সম্পূর্ণ হওয়ার পর। আইএমএফের দাবি, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতি, দুর্বল অর্থনীতি এবং সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা সত্ত্বেও ইসলামাবাদ প্রয়োজনীয় সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে।

শাহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 9 December 2025 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের (Pakistan) জন্য আরও অর্থ ছাড়ল আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (IMF)। সংস্থার কার্যনির্বাহী বোর্ড এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি (EFF)-এর অধীনে ১ বিলিয়ন ডলার এবং রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি ফেসিলিটি (RSF) থেকে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার তৎক্ষণাৎ বিতরণের অনুমোদন দিয়েছে। দুই প্রকল্প মিলিয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) জন্য এ বার মোট বরাদ্দ দাঁড়াল প্রায় ১২০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে ইএফএফের দ্বিতীয় পর্যালোচনা এবং আরএসএফের প্রথম পর্যালোচনা সম্পূর্ণ হওয়ার পর। আইএমএফের (IMF) দাবি, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতি, দুর্বল অর্থনীতি এবং সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা সত্ত্বেও ইসলামাবাদ (Islamabad) প্রয়োজনীয় সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে।
আইএমএফ কী বলল?
এক বিবৃতিতে আইএমএফ (IMF) জানিয়েছে, “ইএফএফ এবং আরএসএফ–সংশ্লিষ্ট দু’টি প্রকল্পের পর্যালোচনা সম্পূর্ণ হয়েছে। এর ফলে ইএফএফের অধীনে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এবং আরএসএফের অধীনে ২০০ মিলিয়ন ডলার তৎক্ষণাৎ ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া হল। দুটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট বিতরণের অঙ্ক দাঁড়াল প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার।”
সংস্থার মতে, ইএফএফ প্রকল্পে পাকিস্তানের নীতি-প্রয়াস ইতিমধ্যেই সাফল্য এনেছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরেছে, এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও অর্থনৈতিক গতিপথ তুলনামূলকভাবে টিকে রয়েছে।
আইএমএফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ অর্থবর্ষে পাকিস্তান জিডিপির ১.৩ শতাংশ প্রাইমারি বাজেট উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে, যা লক্ষ্য পূরণ করেছে। বন্যার কারণে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, তবে তা সাময়িক বলেই মনে করছে সংস্থা।
বহিরাগত সঞ্চয়ে উন্নতির কথাও উল্লেখ করেছে আইএমএফ। ২০২৫ অর্থবর্ষের শেষে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বেড়ে হয়েছে ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের ৯.৪ বিলিয়ন ডলার থেকে অনেক বেশি। আগামী অর্থবর্ষেও এই সঞ্চয় আরও শক্তিশালী হবে বলে তাদের পূর্বাভাস।
আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং অস্থায়ী চেয়ারম্যান নাইজেল ক্লার্ক বলেছেন, “পাকিস্তান সাম্প্রতিক একাধিক ধাক্কার মাঝেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিরতা ধরে রাখতে পেরেছে। জিডিপি বেড়েছে, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে এবং রাজস্ব ও বৈদেশিক খাতের ভারসাম্য আরও উন্নত হয়েছে।”