তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হয়ে হঠাৎ করে ভারতের জন্য মার্কিন নীতি বদলে সম্পর্ক খারাপ করছেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 6 December 2025 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্বের (India-Russia Relation) সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে, গত কয়েকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে এনিয়ে আলোচনা চলছে। এই বিষয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন পেন্টাগন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) গুরুতর অদক্ষতা এবং পাকিস্তানের (Pakistan) 'তোষামোদ'-এর কারণেই ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে আমেরিকার। আর সেই ফাঁকেই ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে।
সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইকেল জানিয়েছেন, 'মার্কিন নাগরিকেরা ট্রাম্পের (Donald Trump) সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন।' তাঁর কথায়, 'অনেকেই ভাবছেন, কীসের প্রভাবে ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? হয়তো পাকিস্তানের তোষামোদ কিংবা পাকিস্তান-তুর্কি-কাতারের তরফে 'ঘুষ' ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হয়ে হঠাৎ করে ভারতের জন্য মার্কিন নীতি বদলে সম্পর্ক খারাপ করছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ভারত–রাশিয়া বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান এই দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।
মাইকেল রুবিন আমেরিকার এই অবস্থানকে 'দ্বিচারিতা' বলেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, আমেরিকা (America) নিজেই রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি করে, অথচ ভারতকে তেল কেনার জন্য 'বকাঝকা' করছে, এটা নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তিনি বলেন, 'ভারত (India0) বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলির একটি, শীঘ্রই তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। ভারতের উন্নতির জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। তাই ভারত নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে, এটিই স্বাভাবিক।'
ট্রাম্পকে মাইকেল রুবিনের পরামর্শ, ভারতকে উপদেশ দেওয়ার বদলে আমেরিকার উচিত ভারতের জন্য সস্তায় জ্বালানি সরবরাহ করা। তাঁর কথায়, "যদি তার কোনও সমাধান না থাকে, তবে আমাদের চুপ থাকা উচিত। কারণ ভারতকে আগে নিজের নিরাপত্তা ও সুবিধা দেখতেই হবে।"
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের অগস্টে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসান ট্রাম্প। যার ২৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য 'শাস্তি' হিসেবে ভারতের কাঁধে চাপিয়েছেন।
এরই মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Russia President Vladimir Putin) ৪ ডিসেম্বর দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (India PM Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠক করেন। শক্তি, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য- এই আলোচনাগুলিই ছিল বৈঠকের মূল ফোকাস। পুতিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির জন্য রাশিয়া অবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।