ভারতে (India) পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভাল দেখালেও 'সাইলেন্ট লে অফ' বা স্বেচ্ছাকৃত পদত্যাগে হাজার হাজার কর্মী প্রভাবিত হয়েছেন। সূত্রে খবর, আইটি খাতে ৫০ হাজার কর্মীর চাকরি ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 December 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সাল তার শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এই সময়েই বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে এক অদ্ভুত সংকট দেখা দিয়েছে (Layoff Tsunami 2025)। অর্থনীতিবিদরা এর নাম দিয়েছেন, 'পুনর্গঠনমূলক মন্দা', যার অর্থ 'চাকরি ও বাজারের বড় পরিবর্তনের কারণে সাময়িক সমস্যা।'
এবছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.১৭ মিলয়ন চাকরি বাতিল হয়েছে, যা ২০২০ সালের করোনা অতিমারির সময়ের ২.২ মিলিয়ন ছাঁটাইয়ের পর সর্বোচ্চ (post-pandemic layoffs)। ২০২৪ সালের তুলনায় এটি ৫৪ শতাংশ বেশি। মূলত খরচ কমানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের কারণে এত বিপুল সংখ্যায় ছাঁটাই করছে সংস্থাগুলি।
মার্কিন তথ্য (US Report) অনুযায়ী, অক্টোবর পর্যন্ত আমেরিকায় ১০ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫০০ চাকরি বাতিল হয়েছে। সরকারি সংস্থা DOGE-র উদ্যোগে ৩ লক্ষ ৭ হাজার ৬৩৮ জন সরকারি কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে চাকরি হারিয়েছেন ১ লক্ষ ৪১ হাজার ১৫৯ জন, যার মধ্যে রয়েছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য পদাধিকারীরাও। ব্যাঙ্কিং ও ফাইনান্স খাতেও প্রায় ৪৮ হাজার ৯৬৮ জনের চাকরি ছেঁটে ফেলা হয়েছে এবং খুচরো বাণিজ্যেও ৮৮ হাজার ৬৬৪ চাকরি বাতিল হয়েছে।
ভারতে (India) পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভাল দেখালেও 'সাইলেন্ট লে অফ' বা স্বেচ্ছাকৃত পদত্যাগে হাজার হাজার কর্মী প্রভাবিত হয়েছেন। সূত্রে খবর, আইটি খাতে ৫০ হাজার কর্মীর চাকরি ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। টিসিএস একাই ১২ হাজার চাকরি ছেঁটে ফেলার পরিকল্পনা করছে।
দেশের স্টার্টআপ সংস্থাগুলিও (Start Up Company) একই দিকে এগোচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৬ হাজার ৭১৬ জন চাকরি হারিয়েছেন। ফিনটেক স্টার্টআপ বন্ধ হওয়ার কারণে BFSI খাতে কিছু ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, চাকরি হারানোর নেপথ্য এআই-এর ভূমিকা অন্যতম। সফটওয়্যার, ডেটা অ্যানালাইসিস, কাস্টমার সার্ভিসের মতো কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় হওয়ার কারণে বহু পদ অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। স্টার্টআপ খাতের অতিরিক্ত নিয়োগ এবং সংস্থার অর্থভাণ্ডারে সংকট চাকরি ছাঁটার এক অন্য বড় কারণ।
বিশ্বজুড়ে চাকরি ছাঁটাইয়ের এই ধাক্কায় প্রায় ১.১৭ মিলিয়ন মানুষকে নতুন কিছু শেখা ও অন্য কাজের প্রস্তুতির পথে যেতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি খারাপ হয়নি, ভারতে স্টার্টআপে আবার বিনিয়োগ বাড়ছে, আমেরিকার (America) প্রযুক্তি খাতও স্থিতিশীল হচ্ছে, একই সঙ্গে ব্যাঙ্কিং-ফাইন্যান্স (BFSI) খাতে পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ডভিত্তিক (ESG) নতুন ধরনের চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫-এর এই চাকরি সংকটকে অনেক বিশেষজ্ঞ 'পুরনো কাঠামো ভেঙে নতুন করে গড়ে তোলার সময়' হিসেবে দেখছেন- যা ২০২৬ সালে আরও শক্তিশালী, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী চাকরির বাজার তৈরি করতে সাহায্য করবে।