সীতারমন এদিন আলোচনায় আরও বলেন,“মুদ্রার দর নিয়ে বিতর্কে অনেকেই অতীতের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু আজ ভারতের বৃদ্ধির হার, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ভিত্তি—সবই বদলে গেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকেই সামনে রাখতে হবে।

শেষ আপডেট: 6 December 2025 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন ডলারের (Dollar) বিপরীতে ভারতীয় টাকার (Rupee) পতন ধরে রাখতে পারছে না কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে মনমোহন সিংহর উপর দোষারোপ করতেন যাঁরা, তাঁদের জমানাতেই টাকার রেকর্ড পতন ঘটে গেছে। প্রথমবার ৯০ পেরিয়ে গেছে ডলারের বিনিময়ে টাকার দাম। শনিবার এ ব্যাপারে প্রথম বার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন(Nirmala Sitharaman)। তাঁর সাফ কথা, টাকা নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেবে!
একটি সংবাদপত্রের অনুষ্ঠানে এদিন নির্মলা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “টাকা শেষ পর্যন্ত নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেবে।” সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, মুদ্রার মান নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অতীতের সঙ্গে তুলনা নয়, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সীতারমন এদিন আলোচনায় আরও বলেন,“মুদ্রার দর নিয়ে বিতর্কে অনেকেই অতীতের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু আজ ভারতের বৃদ্ধির হার, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ভিত্তি—সবই বদলে গেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকেই সামনে রাখতে হবে।”
অর্থাৎ মনমোহন জমানায় যে পতন ঘটেছিল, তাঁর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি তুলনা করলে চলবে না বলেই তাঁর মত। জানিয়ে রাখা ভাল, ইউপিএ জমানায় ডলারের বিনিময়ে টাকার দাম ৬০-ও ছোঁয়নি। তার আগেই থেমে গেছিল। মোদী জমানায় গত ১১ বছরে ৩৩ টাকা কমে গেছে ডলারের বিনিময়ের ভারতীয় মুদ্রার মূল্য।
অর্থমন্ত্রী এদিন অবশ্য জোর দিয়ে বলেন, ভারতের অর্থনীতি চলতি আর্থিক বছরে ৭ শতাংশ বা তারও বেশি হারে বাড়তে পারে, এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে যে গতি দেখা গিয়েছে, তা বছরজুড়েই বজায় থাকবে বলেই আশা।
তবে এখানেও একটা প্রশ্ন রয়েছে। যে পদ্ধতিতে ভারতীয় অর্থনিীতির বৃদ্ধির গণনা করছে বর্তমান সরকার, সম্প্রতি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ তথা আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। এ ব্যাপারে ভারতকে সি-গ্রেড দিয়েছে আইএমএফ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্মলা এদিন রফতানির বিষয়টি নিয়েও আলোকপাত করতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, ডলারের বিপরীতে টাকা দুর্বল হলে রফতানিকারকদের বাড়তি সুবিধা হওয়ার কথা। তবে মার্কিন শুল্কনীতির প্রেক্ষিতে সেই তত্ত্ব পুরোপুরি খাটে না।
টাকার রেকর্ড পতনের কারণ
৪ ডিসেম্বর ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকা নেমে যায় ৯০.৪৬–এ, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
পতনের মূল দুটি কারণ—ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নাগাড়ে পুঁজি তুলে নেওয়া। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—টাকা দুর্বল হলেও দেশে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ০.২৫%, যা রেকর্ড নিম্ন; আর GDP বৃদ্ধির হার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৮.২%।
আয়করে ছাড় ও GST হার পুনর্বিন্যাস—এই দুটি বড় সংস্কারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী এদিন বলেন, সময় লাগবে প্রকৃত ফলাফল বুঝতে। অর্থনীতির প্রতিক্রিয়া ধীরে প্রকাশ পায়, তাই এখনই চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি।