তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক এবার নিজের নিরাপত্তার খাতিরে আট আটজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘুরছেন। সূত্রের খবর, ওই বাউন্সারদের সকলেই হায়দরাবাদ থেকে এসেছেন।
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষী
শেষ আপডেট: 9 December 2025 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আমাকে কাউকে দিয়ে খুন করিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এটুকু বলে রাখছি, আল্লা আছেন। মেরে ফেললেও মসজিদ আমি তৈরি করেই ছাড়ব।" প্রাণনাশের হুমকির পরও বেলডাঙার (Beldanga) মরাদিঘি এলাকায় মসজিদের শিলান্যাস করেছিলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক এবার নিজের নিরাপত্তার খাতিরে আট আটজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘুরছেন। সূত্রের খবর, ওই বাউন্সারদের সকলেই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির হায়দরাবাদ থেকে এসেছেন।
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল শিলান্যাসের পর থেকেই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্র করে জল্পনা, বিতর্ক, পাল্টা-বিতর্ক চলছেই। উঠে আসছে ওয়েইসির (Asauddin Owisi) দল এআইএমআইএম (AIMIM)-এর সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের সম্ভাবনাও। যদিও জোটের বিষয় নস্যাৎ করেছেন ওয়েইসি।
বস্তুত, বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা শুরুর আগেই স্টেডিয়ামে পৌঁছে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। জেলা নেতৃত্বের আমন্ত্রণে মূল মঞ্চের পাশেই অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ঠিক তখনই সাংবাদিকদের মুখে শোনেন, কলকাতায় তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তাঁকেই সাসপেন্ড ঘোষণা করেছেন ফিরহাদ হাকিম।
শুনেই হুমায়ুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফিরহাদের বক্তব্যে তিনি প্রতিক্রিয়া দেবেন না। বরং নিজের দলই গড়বেন। এবং সেই দলের প্রার্থীরাই লড়বে ১৩৫টি আসনে। এখানেই থামেননি তিনি। দল, দলনেত্রী এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানান।
হুমায়ুন বলেন, ২২ ডিসেম্বর বহরমপুরের টেক্সটাইল মোড়ে তিনি নতুন দলের ঘোষণা করবেন। বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে যেমন লড়বেন, তেমনই তৃণমূলের দুর্নীতি, তোলাবাজির বিরুদ্ধেও সরব হবেন। যারা জেলায় দুর্নীতিবাজ, তারাই গুরুত্ব পাচ্ছে। শেষ বিচারে ফয়সালা দেবে জনতাই।
গত কয়েক মাস ধরেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলছিলেন তিনি। শোকজও হয়েছিলেন একাধিকবার। কিন্তু, যেই তিনি সাসপেন্ড হয়ে যান, ওমনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তেতে ওঠেন তিনি। জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে গ্রেফতার করা ছাড়া কিছু করতে পারবেন না। অথবা কাউকে দিয়ে খুন করিয়ে দিতে পারেন।”
এরপর থেকেই হুমায়ুন দাবি করে আসছেন যে তিনি ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। এদিকে, এই হুমকি ফোনের মধ্যেই ৬ তারিখ হুমায়ুনের মসজিদের শিলান্যাসও হয়ে গিয়েছে। যা বন্ধ করার জন্যও বাইরের রাজ্য থেকে হুমকি আসছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই আবহেই নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্র তাঁকে সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল। হুমায়ুনের কথায়, “সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য লোক পাঠিয়েছিল। কিন্তু আমি বলেছি, আমি হাইকোর্টে যাব। হাইকোর্ট যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয়, সেই মোতাবেক নিরাপত্তা নেব।” যদিও দেখা গেল, ভরতপুরের বিধায়ক আটজন বাউন্সার নিয়ে ঘুরছেন। তাঁর দাবি এঁরা সকলেই হায়দরাবাদ থেকে এসেছেন।