দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পাল্টে আরও ছোট ছোট রাজ্য বানাতে চাইছে ইসলামাবাদ (Islamabad)। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই তুঙ্গে বিতর্ক (Pakistan to be divided again)।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 9 December 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘পাকিস্তান’ (Pakistan) আর ‘বিভাজন’ শব্দ দুটো পাশাপাশি এলেই মনে পড়ে যেতে বাধ্য ১৯৭১ সাল। যখন পূর্ব পাকিস্তান (East Pakistan) আলাদা দেশ হয়ে জন্ম দেয় বাংলাদেশের। তবে এ বার যে ভাগাভাগির কথা উঠছে, তার রূপ আলাদা। দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পাল্টে আরও ছোট ছোট রাজ্য বানাতে চাইছে ইসলামাবাদ (Islamabad)। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই তুঙ্গে বিতর্ক (Pakistan to be divided again)।
গত রবিবার পাক যোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল আলিম খাঁ ঘোষণা করেছেন, “ছোট ছোট রাজ্য অবশ্যই তৈরি হবে।” তাঁর দাবি, এতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সেবাযজ্ঞও আরও সহজ হবে। জিও টিভি জানিয়েছে, ইস্তেহকাম-ই-পাকিস্তান পার্টি (আইপিপি)-র এই নেতার কথার পরে দেশে ফের জোরালো হয়েছে বহু দশকের পুরনো বিতর্ক— পাকিস্তানকে কি আবার ভাগ করা উচিত?
পাক প্রশাসন যখন বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় বাড়তে থাকা স্বাধীনতার দাবিতে চাপে, ঠিক তখনই উঠে এসেছে আরও রাজ্য তৈরির প্রস্তাব। আলিম খাঁ দাবি করেছেন, সিন্ধ, পাঞ্জাব, বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া— এই চারটি রাজ্য থেকেই তিনটি করে নতুন রাজ্য তৈরি করা হোক। তাঁর কথায়, “আমাদের আশপাশের সব দেশেই ছোট ছোট রাজ্য রয়েছে। আমাদেরও এগোতে হবে সেই দিশায়।”
এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছে শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের কয়েকটি দল। আইপিপি তো বটেই, সঙ্গে রয়েছে করাচিভিত্তিক এমকিউএম-পি। তারা বলেছে, ২৮তম সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে নতুন প্রদেশ তৈরির জন্য সব গণতান্ত্রিক ও আইনগত পথই তারা নেবে।
তবে রাজি নয় শাসক জোটেরই বড় শরিক পিপিপি। আগেই সতর্ক করে রেখেছেন সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ। বলেছেন, সিন্ধকে ভাঙার চেষ্টা হলে দল কখনও মেনে নেবে না।
বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই বলছেন, নতুন প্রদেশ তৈরি করলে যে সমস্যার সমাধান হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং বিপরীতটাও ঘটতে পারে। সমস্যা রাজ্যের সংখ্যায় নয়। সমস্যা শাসন ব্যবস্থায়। দুর্বল প্রতিষ্ঠান, আইনের অসম প্রয়োগ, জবাবদিহির অভাব, এগুলোর সমাধান না হলে কেবল রাজ্য বাড়ালে অসন্তোষ আরও বাড়বে।”
আইয়ুব খাঁর সময় দুই-প্রদেশ মডেল থেকে ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’, পাকিস্তান অতীতে নানা ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো পরীক্ষা করেছে। কিন্তু অভিযোগ, কেন্দ্র–রাজ্য টানাপড়েন আরও বেড়েইছে, সমাধান কিছু হয়নি।
‘মূল কাঠামো শক্ত না হলে ভাঙন আরও বাড়বে’
বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট মত, পাকিস্তানের প্রকৃত প্রয়োজন প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, জেলা ও স্থানীয় স্তরকে শক্ত করা, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করা। তার বদলে আরও রাজ্য তৈরির উদ্যোগ নিলে উলটে বিভাজন-বোধ আরও তীব্র হতে পারে বলেই আশঙ্কা।
অন্যদিকে, ইসলামাবাদে এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দেশ বিচ্ছিন্নতাবাদের চাপ সামলাচ্ছে, সেখানে নতুন করে ‘বিভাজন’ কি পরিস্থিতি সামলাবে, না আরও জল ঘোলা করবে!